বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করার কর্মসূচি থাকলেও পুলিশি বাধায় তা করতে পারেনি দলটি। তবে মিছিল করতে না পারলেও কঠোর দাঙ্গা পুলিশ প্রহরা, জলকামান, রায়টকার পরিবেষ্টিত অবস্থায় নয়াপল্টনে সমাবেশ করেছে বিএনপি।
সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, তাকে গত দুই বছর সাত দিন ধরে কারাগারে আটকে রেখেছে এই প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকার। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, আমরা তার মুক্তির মাধ্যমে সুচিকিত্সার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সরকার কোনো সহযোগিতা করেনি, আমরা আবারও বলছি বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, তাকে মুক্তি দিন। তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষের নয়নের মণি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আমাদের ঘোষিত কর্মসূচি ছিল বিক্ষোভ মিছিল। এতে পুলিশ বাধা দিয়েছে, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে, কার্যালয়ের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দিয়েছে। সরকার মনে করেছে—এভাবে বাধা দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে। জনগণের যে প্রাণের দাবি তাকে বাধাগ্রস্ত করবে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে এভাবে দমনপীড়ন চালিয়ে কখনো ক্ষমতায় থাকা যায় না। জনগণের ন্যায্য দাবিকে কখনো দমন নিপীড়ন করে দমন করা যায় না।
সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল মাহমুদ টুকু, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খায়রুল কবির খোকন, এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এটা ফেব্রুয়ারি মাস, ১৯৫২ সালে এ দেশের মানুষ মায়ের ভাষার জন্য নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দাবি আদায় করেছে। আমরাও দাবি আদায় করব।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকের সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু নেতাকর্মীদের সাহসিকতার ফলে আজকের এ সমাবেশ সফল হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করেছেন বলেই আজ তিনি কারাগারে।