দক্ষিণখানে ট্রিপল মার্ডার, সন্দেহে নিখোঁজ গৃহকর্তা

রাজধানীর দক্ষিণখানে বাসায় দুই শিশুসহ মা খুনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে নিখোঁজ গৃহকর্তা রকিব উদ্দিন ভুঁইয়া লিটনকে খুঁজকে পুলিশ। পুলিশ বলছে, নিহত দুই শিশুর বাবা বিটিসিএলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রকিব উদ্দিনকে পাওয়া গেলে হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন সহজ হতে পারে। এদিকে মৃতদেহ উদ্ধারের সময় হত্যাকাণ্ড বিষয়ে লেখা পুলিশ একটি ডায়েরি জব্দ করেছে। তাতে লেখা আছে, ‘ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে খুন করা হলো। আমাকে পাওয়া যাবে রেললাইনে।’ এই লেখাটি রকিবের বলে ধারণা পুলিশের। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মুন্নির ভাই মুক্তা রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে গতকাল শনিবার দক্ষিণখান                                                                                থানায় মামলা করেছেন। গতকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। মা মুন্নি, দুই শিশু ফারহান ও লাইবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকাল ৪টার দিকে তাদের ময়নাতদন্ত শেষ হয়।

ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিত্সক এ কে এম মাইনুদ্দিন। তিনি বলেন, তিনটি মরদেহের উপরিভাগ বেশি পচনশীল ছিল। নারীটির মাথার পেছনে আঘাত আছে এবং শিশু দুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এমন আলামত পাওয়া গেছে। তিন মরদেহ থেকে ভিসেরা ও রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। রিপোর্ট হাতে পেলে পুরো ঘটনা জানা যাবে। তিনি আরো জানান, আলামত দেখে পরিষ্কার যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা একজনই ঘটিয়েছে।

পুলিশের উত্তরা ডিভিশনের এডিসি হাফিজুর রহমান বলেন, নিহত নারীর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। নিহত নারীর স্বামীকে পাওয়া গেলে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানতে পারব।

মুন্নির মামাতো ভাই তানভীর রহমান জানান, মুন্নি-রকিবের পরিবার সুখের ছিল। ঋণগ্রস্ত হওয়ার পর অশান্তি শুরু হয়। রকিবের নিখোঁজের বিষয়টি রহস্যজনক। ঋণের কারণে চার-পাঁচ মাস আগে আরো একবার তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন।

মুন্নির বাবার বাড়ি মহাখালীর ওয়ারলেস গেটের টিঅ্যান্ডটি রোডে। রকিবের সঙ্গে প্রেম করে ১৪ বছর আগে বিয়ে হয় মুন্নির। দক্ষিণখানের যে ফ্ল্যাট থেকে মুন্নি ও দুই সন্তানের মৃতদেহ পাওয়া গেছে ঐ বাসায় ২০১১ সাল থেকে ভাড়ায় ছিলেন তারা। গত শুক্রবার তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

চিকিত্সক হত্যায় মামলা

ডেমরার মাতুয়াইল মুসলিমনগর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের পরিচালক জামাল হোসেনের কক্ষ থেকে চিকিত্সক মোবারক হোসেনের (৩৩) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী নিহতের বড়ো ভাই রুহুল আমিন। মামলায় আসামি করা হয়েছে জামাল হোসেন ও আক্তার হোসেন মামুনকে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন।

ডেমরা থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাতেই মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে মোবারকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।