স্পোর্টস ডেস্ক
বছরের শুরু থেকেই গোলমুখে লিওনেল মেসির নিষ্প্রভতা কিছুটা চোখে পড়ছিল। শেষ চার ম্যাচে তা প্রকট হয়েই দেখা দিয়েছে। গত শনিবার গেতাফের বিপক্ষে ঘরের মাঠেও গোল না পাওয়ায় শেষ ছয় বছরে সবচেয়ে শোচনীয় গোলখরায় পড়েছেন বার্সা অধিনায়ক। তবে ফিনিশিং ঠিকঠাক না হলেও সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে ঠিকই বার্সেলোনাকে ২-১ গোলের জয় পাইয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা।
মেসি সবচেয়ে বড়ো গোলখরার মুখে পড়েছিলেন ২০১৪ সালে। সেবার জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে টানা ৮টি ম্যাচে গোল পাননি তিনি। সে রেকর্ডটার পুনরাবৃত্তি নিশ্চয়ই চাইবেন না ছয় বারের ব্যালন ডি অর জয়ী। সেটা এড়াতে হলে এসডি এইবার, রিয়াল মাদ্রিদ, রিয়াল সোসিয়েদাদ কিংবা মায়োর্কার বিপক্ষে যে কোনো একটি ম্যাচে গোল করতেই হবে তাকে। গোল না করলেও মেসি দলে নিজের অপরিহার্যতা বজায় রেখেছেন গোল করানোর ক্ষমতা দিয়ে। বার্সেলোনার হয়ে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি যোগানের কীর্তিটা করেছিলেন গত মৌসুমে। সেবার ৩৪ ম্যাচে ১৩টি যোগানের রেকর্ডটাকে এ মৌসুমে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন মাত্র ১৯ ম্যাচ খেলেই। ইতিমধ্যেই ১২টি গোলের যোগান দেওয়া মেসি আর দুইটি গোল করালেই ব্যক্তিগত সেরা রেকর্ডটা ভেঙে ফেলবেন।
মেসির ১২ যোগানের শেষটি এসেছে শনিবার রাতে। ন্যু ক্যাম্পে সেদিন গেতাফে বার্সেলোনার জালে বল জড়ালেও ভিএআরের কল্যাণে রক্ষা পান মেসিরা। এরপর ৩৩ মিনিটে আর্জেন্টাইন তারকার বাড়ানো বলে আন্তনিও গ্রিজমান গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এর মিনিট ছয়েক পর ব্যবধান বাড়ান সার্জি রবার্তো। ৬৬ মিনিটে সফরকারী গেতাফে গোল শোধ করলেও ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্টের সমতা পায় বার্সেলোনা। শুরুর অর্ধে মেসি-গ্রিজমান জুটির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রশংসায় কোচ কিকে সেতিয়েন বলেন, ‘খেলাটা মোটেও সহজ ছিলো না। এবং ম্যাচটা জেতায় আমরা খুশি। আমাদের কিছু মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে যারা এসব কঠিন ম্যাচে খেলতে পারে। এটাই আমরা চাই যে, তারা জ্বলে উঠুক এবং পার্থক্য গড়ে দিক।’ অন্যান্য মৌসুমে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা দলকে হারালে কাতালানরা স্বস্তিই পেত। কিন্তু এ মৌসুমে সেটা হচ্ছে না মোটেও। তালিকার তৃতীয় দল গেটাফেকে হারানোর দিনে জর্দি আলবাকে হারিয়েছে তারা। ম্যাচে পাওয়া কুঁচকির চোট তাকে ঠিক কত ম্যাচের জন্য ছিটকে দিয়েছে তা নিয়েও এখনো নিশ্চিত নয় বার্সা কর্তৃপক্ষ। ফলে স্কোয়াড নিয়ে কোচ সেতিয়েনের দুশ্চিন্তা আরো বেড়েছে বৈকি!