বসন্ত ও বইমেলা

মধ্য মাঘের ক্ষীণায়ু শীতের ডানায় ভর করে আসে বসন্ত। আর তখন শুরু হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলা। আর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ফাগুনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। বইমেলায় তার স্পর্শ খুব জোরালোভাবেই পড়ে। তেরোতে পহেলা ফালগুন আবার পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস আরো এক ধাপ রাঙিয়ে দিয়ে যায় বইমেলাকে। এবার তার কিছুটা ব্যতিক্রম হলো। দ্বিধাবিভক্ত হলো এবারের পহেলা ফাগুন। কেন যেন তাকে টেনে নেওয়া হলো ১৪ ফেব্রুয়ারি। অথচ আমরা সেই কবে থেকে জেনে আসছি ফাল্গুন মাসের পয়লা দিন হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি। তাই এবার বসন্ত কেউ পালন করল ১৩ই আবার কেউ ১৪ই। আবার ১৪তে শুক্রবার ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন একই দিনে পড়ায় কেমন যেন একটা তালগোল পাকিয়ে গেল। দিবসগুলোর আর স্বাতন্ত্র্য চোখে পড়ল না। এবারের বইমেলার এ এক বড়ো অসামঞ্জস্য ব্যাপার। অবিচার হলো যেমন দিবসগুলো পালনে; আবার ব্যাবসায়িক ক্ষতি হলো প্রকাশকদের। আবার আসছে একুশে ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পড়ায় আরেক ধাপ লোকসানের হিসাব গুনবে প্রকাশকরা, সঙ্গে বেড়ানোর আনন্দবঞ্চিত হবে দর্শক-পাঠক। আবার লিপইয়ার—বছরে এক দিন বেশি মেলা পাওয়ার লাভ শুরুতেই ফুরিয়েছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কারণে। মেলা শুরু হয়েছে দুই তারিখ। হিসাবে সেই ২৮ দিনই থেকে গেল লিপইয়ারেও।

এবারের বইমেলায় কিছু লোকসানের খতিয়ান দিলাম বটে, সুখবরটা না হয় পরেই দেওয়া যাক। আপনারা যারা এবারের বইমেলায় এক দিনের  জন্যও গেছেন, নিশ্চয় আপনাদের চোখে পড়েছে এক বিরাট দৃশ্যমান পরিবর্তন। সেটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখাবার দরকার নাই। আর বইমেলা জুড়ে যে কীভাবে উড়ে বেড়াচ্ছে বসন্ত তা মেলায় যাওয়া মাত্রই যে কোনো জন বুঝতে পারবেন। এত পরিচ্ছন্ন এবং এত খোলামেলা পরিবেশে, এতটা স্পেস দিয়ে স্টল বরাদ্দের নমুনা আগে কখনো চোখে পড়েনি। তারপর লেকের প্রায় সিংহভাগ পাড় ঘিরে এত এত সুদৃশ্য স্টল সাজানোর নন্দন দেখে বসন্ত আর কোথায় উড়ে যাবে! যেন সমীরে-গন্ধে-কোকিলের কুহুতানে লুটিয়ে বেড়াচ্ছে বইমেলায়। এবারের মেলার মানচিত্র বলে দিচ্ছে—দিন দিন আমাদের বাংলা একাডেমি তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ড পূর্ণ করছে আর নব নব সাজে ঐশ্বর্যময় করে তুলছে অমর একুশে বইমেলা।