জালিয়াতি ঠেকাবে নতুন এটিএম!জালিয়াতি ঠেকাবে নতুন এটিএম!

ব্যাংক গ্রাহকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড চুরি করে কিংবা পাসওয়ার্ড জালিয়াতি করে সহজে অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) থেকে টাকা তুলে নিতে পারে জালিয়াত চক্র। আবার কখনো বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তি পাসওয়ার্ড জেনে ফেললে সে-ও জালিয়াতির সুযোগ নেয়। এই জালিয়াতি রোধে উন্নতমানের এটিএম মেশিন উদ্ভাবন করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একদল গবেষক। এতে তারা ব্যবহার করেছেন গ্রাহকের দুই আঙুলের ছাপ, চেহারা স্ক্যানিং, চোখের মণি স্ক্যানিং, ওয়ান টাইম (একবার ব্যবহারের উপযোগী) পাসওয়ার্ডের মতো অনেক সুরক্ষা স্তর। এটিএম বুথে গিয়ে কোনো বিপদে পড়লে সেখান থেকে কার্ডের মাধ্যমে অন্যের কাছে সংকেতও পাঠানো যাবে। গবেষক দলের দাবি, তাদের উদ্ভাবিত যন্ত্রের মাধ্যমে এটিএম জালিয়াতি শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।রুয়েটের মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. সজল কুমার দাসের নেতৃত্বে এটিএম মেশিনটি উদ্ভাবনে গবেষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ সিরিজের শিক্ষার্থী রাশেদুজ্জামান, মশিউর রহমান আকাশ ও ১৬ সিরিজের শিক্ষার্থী নাহিদ লাবিব চৌধুরী। বিভাগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দে তারা এই গবেষণা করছেন বলে জানান ড. সজল কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা আরএফ আইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) কার্ড দিয়ে কাজ করেছি। এতে শতভাগ সফল হয়েছি। দ্রুতই ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড সংযোগ করার বিষয়টি যুক্ত করা হচ্ছে। এর বাইরে নতুন আরো কিছু বিষয় যোগ করব।’ তিনি আরো বলেন, বর্তমানে যেসব এটিএম প্রচলিত, তাতে এতগুলো সুরক্ষা স্তর নেই। ফলে সহজেই প্রতারণার মাধ্যমে এটিএম থেকে টাকা তুলে নেয় জালিয়াত চক্র। তাদের উদ্ভাবিত মেশিন থেকে কেউ চাইলেই জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলন করতে পারবে না। এখানে চার-পাঁচ ধরনের নিরাপত্তা স্তর ভেরিফিকেশন হলেই টাকা বের হবে।

সুরক্ষার বিষয়ে ড. সজল বলেন, অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতেই তাদের এই গবেষণা। তাদের এই প্রযুক্তি হ্যাক করে কারো তথ্য নেওয়া সম্ভব নয়। মেশিনে কার্ড প্রবেশ করানোর পর টাকা তুলতে হলে তাকে আঙুলের ছাপ দিতে হবে। এরপর মেশিনের সামনে থাকা ক্যামেরা তার চেহারা স্ক্যান করবে। সবগুলো ভ্যারিফিকেশন সঠিক হলে তখন টাকা বের হবে। অন্যথায় এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করা যাবে না। পরবর্তী সময়ে অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার আরো সুরক্ষা দিতে আইরিশ (চোখের মণি) স্ক্যানিং প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি জানান, টাকার সঙ্গে ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্যও তারা কাজ করছেন। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে এটিএম গ্রাহকদের নিবন্ধন থাকবে। বায়োমেট্রিকের সময় দুই আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। এর একটি তার টাকা উত্তোলনের জন্য, আরেকটি টাকা উত্তোলন বন্ধ রাখার জন্য। ধরা যাক এটিএম বুথে গ্রাহককে ছিনতাইকারীরা টাকা তুলে দিতে বল প্রয়োগ করছে। তখন তিনি টাকা উত্তোলন বন্ধ রাখার আঙুলের ছাপ দেবেন, যা ছিনতাইকারী বুঝতে পারবে না। এতে করে মেশিন থেকে টাকা বের হবে না। আঙুলের ছাপ দেওয়ায় বুথে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। এতে লোকজন ভেতরের সমস্যা সহজেই বুঝতে পারবে। তা ছাড়া গ্রাহক তার বিশ্বস্ত কারো ফোন নম্বর বা ইমেইল ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে তিনি কখনো টাকা তুলতে গিয়ে আঙুলের ছাপ (যেটি টাকা উত্তোলন বন্ধ করবে) দিলে ঐ মোবাইল নম্বর বা ইমেইলে এটিএম বুথের নাম-ঠিকানাসহ তার কাছে বিপত্সংকেত মেসেজ পৌঁছে যাবে। এতে গ্রাহক বাড়তি নিরাপত্তা পাবেন।