ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খোশ নাহার আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে ১৬ মামলার আসামি মোস্তাক আহমেদ ফয়সাল নামের এক ব্যক্তি। গত শনিবার রাতে শহরের কাউতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খোশ নাহার পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিয়ালহুড়ী গ্রামের মৃত সোনাব আলীর মেয়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফয়সালকে আটক করা হয়েছে। ঘণ্টাব্যাপী নির্যাতনে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গরম লোহার ছ্যাঁকা দিয়ে ঝলসে দেওয়া এবং এক পর্যায়ে তার মাথার চুলও কেটে ফেলা হয়।
নির্যাতনের শিকার খোশ নাহার জানান, ফয়সাল ও তাদের বাড়ি পাশাপাশি গ্রামে। সেখান থেকে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। নানা কু-কর্মের কারণে তার পরিবারকে গ্রামছাড়া করেছে এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে সে মোবাইল ফোনে জানায়, তার বৌয়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। বিষয়টি সুরাহার জন্য তাকে বাসায় আসতে হবে। তারপর আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে আশুগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হোটেল উজান-ভাটির সামনে অবস্থান করি। সেখান সে আমাকে গাড়িতে তুলে তার কাউতলীর ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় এবং তারপর হাত-পা বেঁধে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার দাবি জানায়। এমনকি তার কাছে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন সেটও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আরো টাকার জন্য শুরু করা হয় নির্যাতন। এ সময় কয়েকজন মিলে তাকে মারধর এবং হাত, পা ও গলায় গরম লোহার ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এছাড়া কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক আমার মাথার চুলও কেটে দেয়। এক পর্যায়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করে শিশু অপহরণকারী আটক করা হয়েছে বলে পুলিশকে অবহিত করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এসআই মোতালেব জানান, আমরা ৯৯৯ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আহতাবস্থায় ঐ নারীকে উদ্ধার করি এবং অভিযুক্ত মোস্তাক আহমেদ ফয়সালকেও আটক করে থানায় নিয়ে আসি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ফয়সালের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর থানায় হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্রসহ ১৬টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।