ডিএনসিসির হটলাইন সেবা ৩৩৩

বিভিন্ন নাগরিক সেবার জন্য কল সেন্টারের প্রচলন একটি শুভ উদ্যোগ। ট্রিপল নাইন বা ৯৯৯ নম্বরে টেলিফোন করিয়া অনেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান হইতে সেবা লাভ করিতেছেন। ইহার মাধ্যমে কেহ কেহ যেমন ধর্ষণ বা হত্যাচেষ্টার হাত হইতে রক্ষা পাইয়াছেন, তেমনি ঘরের মধ্যে লক হইয়া যাওয়া শিশুকেও উদ্ধার করা সম্ভব হইয়াছে। জনপ্রিয় হটলাইনের মধ্যে দুদকের ১০৬ নম্বর অন্যতম। সেখানে প্রতি মাসে শত শত অভিযোগ আসে। দিনে দিনে আরো নূতন নূতন বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে হটলাইন আসিতেছে। এমনি একটি ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের হটলাইন। কোরবানির বর্জ্য অপসারণে তাহাদের হটলাইন ও ফেসবুকে সক্রিয় থাকিবার মাধ্যমে সরাসরি জনগণের অভাব-অভিযোগ শুনিবার ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। সেই হটলাইনের মাধ্যমে ফোন করিয়া ডিএনসিসির যে কোনো সেবা ও তথ্য জানিতে পারা যায়। কোনো নাগরিক সেবা পাইতে হয়রানির শিকার হইলে এই নম্বরে ফোন করিয়া অনুরোধ বা অভিযোগও করা যায়। এমনকি প্রয়োজনে সরাসরি মেয়র, কাউন্সিলরসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগও করা যায়।

মজার ব্যাপার হইল, গত তিন মাসে ডিএনসিসির সেবা নিতে ১০টি অঞ্চল হইতে এই নম্বরে ফোন করিয়াছেন ২৭৭ জন। ইহার মধ্যে ২৩৪টি অভিযোগের সমাধান করা হইয়াছে। ১০টি অভিযোগ নিয়া কাজ চলিতেছে এবং ৩২টি অভিযোগ রহিয়াছে অমীমাংসিত। যেহেতু অধিকাংশ অভিযোগের সুরাহা করা হইয়াছে, সুতরাং আমরা এই হটলাইন চালুর উদ্দেশ্য বহুলাংশে পূর্ণ হইয়াছে বা হইতেছে বলিয়া বিবেচনায় আনিতে পারি। লক্ষণীয় বিষয় হইল, সবচাইতে বেশি অভিযোগ পড়িয়াছে মশা নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়া। ইহার পরই আছে সড়ক ও ফুটপাত হইতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, উন্নয়নকাজের জন্য চলাচলের দুর্ভোগ, খাদ্যে ভেজাল ও নিম্নমানের খাবার তৈরি, সড়কবাতি, বায়ুদূষণ, কুকুর নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি। ইহা ছাড়া গৃহকর, জন্ম ও মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও টিকাকেন্দ্রসংক্রান্ত সেবাও মানুষ হটলাইনের মাধ্যমে নিয়াছেন।

‘তথ্যসেবা সবসময়’—এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করিয়া হটলাইন নম্বর ৩৩৩-এর অগ্রযাত্রা শুরু হয়। ইহাতে কল করিয়া ডিএনসিসি অধিভুক্ত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সেবা, তথ্য ও অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়টি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বত্সরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টাই এই সেবা উন্মুক্ত আছে। এই ব্যাপারে দরকার আরো প্রচার-প্রচারণা, যাহাতে রাজধানীবাসী সকলে এই হটলাইনের বিষয়টি জানিতে পারেন। দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ডিএনসিসি প্রথম এই ধরনের সেবা চালু করে। এমন উদ্যোগ সর্বত্র ও সকল দপ্তর-অধিদপ্তর ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছড়াইয়া দেওয়া দরকার। দেশের একাধিক মন্ত্রণালয় ও দপ্তরসমূহে এই ধরনের সেবা ইতিমধ্যেই চালু হইয়াছে। ইহার মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত হইতেছে। এমন সেবা কার্যক্রমের পরিধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইবে বলিয়া আমরা একান্তভাবে কামনা করি।