আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর হাতে দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল সোমবার দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া তার হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেন। এ সময়ে আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আমিন, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দলের চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র হাতে পাওয়ার পর রেজাউল করিম চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেয়র নির্বাচিত হলে সুন্দর পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চট্টগ্রাম নগরী গড়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। রেজাউল করিম চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দলের সবাই তার জয়ের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন। বর্তমান মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনকেও এই নির্বাচনে তিনি পাশে পাবেন বলে জানান। বর্তমান মেয়রসহ ১৯ জন প্রার্থীকে ডিঙ্গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান রেজাউল করিম চৌধুরী। তৃণমূল থেকেই উঠে এসেছেন এই নেতা। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময়েও অবিভক্ত পাকিস্তান ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। সত্তরের নির্বাচনে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন তিনি। এরপর মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত হন। ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং অবিভক্ত জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে থাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পরবর্তী জিয়া-এরশাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এই নেতা সম্পৃক্ত ছিলেন আবদুর রাজ্জাকের বাকশালেও। তিনি ১৯৯১ সালে বাকশালের হয়ে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নেন চান্দগাঁও-বোয়ালখালী সংসদীয় আসন থেকে। সম্প্রতি একই সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মান্নান ও সাধারণ সম্পাদক এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্য হন। পরবর্তীতে তিনি যথাক্রমে সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক হন।
চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের ঐতিহ্যবাহী বহদ্দার বাড়ির সন্তান রেজাউল। চট্টগ্রাম কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট হারুনুর রশীদ চৌধুরী তার বাবা। দীর্ঘকালীন ত্যাগের পুরস্কার হিসেবে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আপ্লুত রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, দলীয় সভানেত্রীর বিশ্বাসের মর্যাদা তিনি রাখবেন। অন্যদিকে মনোনয়ন না পাওয়ায় হতাশ হননি বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এমনকি আসন্ন সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী করতে ‘জীবন বাজি রেখে’ কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। গতকাল বিকালে ঢাকা থেকে ফিরে নগরীর আন্দরকিল্লা নজির আহমদ চৌধুরী রোডে নিজ বাসার সামনে সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নাছির। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাত্কার দেওয়ার জন্য গত শনিবার তিনি ঢাকায় যান।
যদিও কাজের ধারাবাহিকতার জন্য দ্বিতীয়বারে মনোনয়নের প্রত্যাশা থাকলেও বঞ্চিত হওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছে নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের মধ্যে। নাছিরের ফেরার খবর পেয়ে বাসার সামনে জড়ো হন কয়েকশ অনুসারী। এ সময় স্লোগানে-স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মনোনয়ন না পাওয়ায় হতাশ কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র নাছির বলেন, ‘আপনারা আমার চেহারা দেখেন। আমার মধ্যে কোনো হতাশা নেই। কর্মীদের মধ্যে কিছুটা ইমোশন হয়তো আছে। ইনশাল্লাহ সেটা কেটে যাবে। আমি কর্মীদের সঙ্গে বসব। পর্যায়ক্রমে সবার সঙ্গে বসা হবে।’ রেজাউলকে বিজয়ী করতে আন্তরিক চেষ্টা থাকবে জানিয়ে নাছির বলেন, আমি যেহেতু সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে বসব, নেতাদের সঙ্গেও বসব। আশা করি, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির এম মনজুর আলমকে হারিয়ে মেয়র হন আ জ ম নাছির উদ্দীন।