পিরোজপুরে পাসপোর্ট করতে এসে রোহিঙ্গা আটক

পাসপোর্ট অফিসে ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়ার সময় সার্ভারে ধরা পড়ে জামাল বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া একজন রোহিঙ্গা। গত রবিবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ভাণ্ডারিয়া থেকে এ ঘটনায় মো. জামাল (২১) নামে এ রোহিঙ্গাকে আটক করে। মিয়ানমারের বাস্তচ্যুত নাগরিক মো. জামাল ২০১৭ সালের    ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। জেলা  পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামাল রবিবার পিরোজপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পর ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়ার সময় সার্ভারে দেখা যায় সে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালি রিফিউজি ক্যাম্পের একজন শরণার্থী। রোহিঙ্গা জামালের রিফিউজি পরিচয় নং ১৩২২০১৮০১২০১৪৫৮৫২।

পরে তার কথাবার্তায় বেরিয়ে আসে সে একজন রোহিঙ্গা। এরপর সে পাসপোর্টের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই উধাও হয়। পাসপোর্টের আবেদনে জামাল তার বাবার নাম মো. মিজান সিকদার, মায়ের নাম শাহিনুর বেগম সাং ভাণ্ডারিয়া পৌরশহরের ২ নম্বর ওয়ার্ড লিখেছিল। পাসপোর্ট অফিসে এসময় তার সঙ্গে আসা ভুয়া মা শাহিনুর বেগমও লাপাত্তা হয়ে যান।  পুলিশ এ খবর জেনে তাকে ভাণ্ডারিয়া পোনা ব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে জামাল জানায়, সে মিয়ানমারের নাগরিক, পিতা আমির হোসাইন, মায়ের নাম বেলুয়া বেগম, সাং রাম্যখালী, থানা ডেমিনা, জেলা রাখাইন। তার আরো দুই ভাই আবু তৈয়ব ও আবু হায়াত এবং তিন বোন রুখাইয়া, জামালিডা ও সোমাকে নিয়ে ২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসে। এরপর তারা কক্সবাজারের বালুখালী শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় পায়।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, আটক রোহিঙ্গা জামালের রিফিউজি পরিচয় নম্বর জানা গেছে। এ ব্যাপারে গতকাল সোমবার সদর থানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে জামালসহ চার জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলার বেবী আক্তার এবং জামালের ভুয়া পিতা-মাতা মিজান সিকদার ও শাহিনুর বেগম। কাউন্সিলার বেবী আক্তারকে আসামি করা হয়েছে একজন রোহিঙ্গাকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার নাগরিক ও চারিত্রিক সনদপত্র দেওয়ার জন্য।

এদিকে রোহিঙ্গা নাগরিক জামাল পাসপোর্ট আবেদন ফরমের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে ইস্যু করা জাতীয় পরিচয়পত্র (নং ১৯৯৭৭৯১১৪১১০০০৫১০), ভোটার পরিচয়পত্র, নাগরিক সনদপত্র ও চারিত্রিক সনদপত্র দাখিল করে। এছাড়া আবেদন ফরমের যাচাই কপিতে অনলাইনে ভোটার আইডি, এনআইডি, জন্মসনদ ইত্যাদি ঘরে টিক দেওয়া রয়েছে বলে জানান পিরোজপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হোসেন। রোহিঙ্গা জামালের নামে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা থেকে কীভাবে নাগরিক ও চারিত্রিক সনদপত্র ইস্যু করা হলো এ প্রশ্নের জবাবে পৌর প্রশাসক ও ভাণ্ডারিয়ার ইউএনও নাজমুল আলম বলেন, পৌর কাউন্সিলরের দেয়া সনদসমূহে তিনি প্রতিস্বাক্ষর করেছেন মাত্র। তবে একজন রোহিঙ্গা শরণার্থীর নামে কীভাবে এনআইডি বা ভোটার পরিচয়পত্র ইস্যু করা হলো সে বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন তিনি। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জামাল আরো জানায়, তার দুই ভাই সৌদি প্রবাসী এবং কথিত মা শাহিনুর বেগমেরও দুই ভাই সৌদি আরবে থাকেন। তাদের মাধ্যমে শাহিনুরের ছেলে হূদয়কে বিনা খরচে সৌদি আরবে নেওয়ার চুক্তিতে শাহিনুর দম্পতি জামালকে তাদের ছেলে পরিচয়ে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা থেকে সনদপত্র সংগ্রহ করে এবং জামালকে নিয়ে পাসপোর্ট করতে যায়।