জন্ম:২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৮—মৃত্যু:১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

চলে গেলেন তাপস পাল

বিনোদন ডেস্ক

 

টলিউড ইন্ডাস্ট্রির বরেণ্য অভিনেতা তাপস পাল আর নেই। গতকাল রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি। মেয়ের কাছে যাওয়ার জন্য চলতি মাসের ১ তারিখ বিমানবন্দরে যান তিনি। সেখানে হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভর্তি করা হয় মুম্বাইয়ের হাসপাতালে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালেই ছিলেন তিনি। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। গতকাল ভোর রাতে দ্বিতীয়বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তার। তখনই তিনি মারা যান। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় কলকাতা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয় তার মরদেহ। আজ সকালে ১১টা থেকে তার দেহ শায়িত থাকবে রবীন্দ্র সদনে। সেখানেই প্রয়াত অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাবেন চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তিত্বরা।

তার চলে যাওয়ায় শোকের ছায়া নামে টলিউড পাড়ায়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ও বলিউডের অনেক তারকা তার মৃত্যুতে শোকবার্তা লেখেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।  অভিনেতা চিরঞ্জিত্ বলেন, ‘টলিউডে একটি যুগের অবসান হলো। তাপস পালের সঙ্গে একাধিক ছবি করেছি। একসঙ্গে বন্ধুর মতো কাজ করতাম। আজ (গতকাল) সকালেই তাপস পালের মৃত্যু সংবাদ পাই। এক ভাইকে হারালাম। পরপর অনেকগুলো হিট ছবি করেছে সে। দাদার কীর্তি, সাহেব। তার ছবিগুলো ভোলা যায় না। কিন্তু দেহ চলে গেলেও ওর আত্মা থেকে যাবে। খুব খারাপ লাগছে আমার।’ অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় বলেন, ‘কী বলব? কিচ্ছু বলার নেই আমার। আমি ভাবতে পারছি না তাপস পাল নেই। অকালে চলে গেল। আমাদের পরিবারের মতো ছিল। কম ছবি করেছি একসঙ্গে! তাপসদা বাঙালি দর্শকের কাছে এমন একজন নায়ক, যার ফুটপ্রিন্ট ততদিন থাকবে যতদিন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থাকবে।’

প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের দুঃসময়ে দাদার কীর্তি মুক্তি পেয়েছিল। সেই ছবি দিয়ে নতুন আলো দেখেছিল বাংলা সিনে জগত্। তাপস শুধু আমার অভিনয় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না, একজন ভালো বন্ধুও ছিল। তার এই হঠাত্ চলে যাওয়া বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে একটা নক্ষত্র পতন বলতে পারি। ওকে হারিয়ে আমি একজন সহকর্মীকেই শুধু হারালাম না, একজন বন্ধুকেও হারালাম। ওর স্থান পূরণ হওয়ার নয়।’

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, ‘একটা যুগ, একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ের অবসান হলো। তাপস দার হাসি, অভিব্যক্তি আর অভাবনীয় অভিনয় ক্ষমতা বাঙালিকে চিরকাল আবিষ্ট করে রাখবে। একটা বড় ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে আমাদের সকলের প্রিয় তাপস দা। অনেক দুর্দিনে তিনি সুদিন দেখিয়েছেন বাংলা সিনেমাকে, বাঙালি দর্শককে। তার ভুবন ভরানো হাসির ছোঁয়া সবার মানসপটে জ্বলজ্বল করবে চিরদিন।’ তাপস পালের চলে যাওয়ায় শোক প্রকাশ করেন বাংলাদেশের গুণী অভিনেত্রী রোজিনা। তিনি বলেন, ‘তাপস দা সেই সময় দুই বাংলায় তুমুল জনপ্রিয় নায়ক। সে সময় আমি একটি চলচ্চিত্রে দাদার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাই। দাদার সঙ্গে আমি রূপবান ছবিতে প্রথম কাজ করি। হঠাত্ দাদার চলে যাওয়াটা মন খারাপ করে দিলো। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’ বলিউড তারকা মাধুরী দীক্ষিত টুইটারে বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তার সঙ্গে অভিনয় করেছি। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকাহত। তার আত্মার শান্তি কামনা করি। পরিবারকে সমবেদনা জানাই।’

উল্লেখ্য, পরিচালক তরুণ মজুমদারের ‘দাদার কীর্তি’ সিনেমা দিয়ে অভিনয় জীবনে পদার্পণ করেন তাপস পাল। এরপর ‘গুরুদক্ষিণা’, ‘বলিদান’, ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’-এর মতো একের পর এক সুপারহিট ছবি ছিল তার ঝুলিতে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি। একই বছর ও ২০০৬ সালে পরপর দু-বার বিধানসভা নির্বাচনে জেতেন। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে পরপর দু-বার কৃষ্ণনগর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি।