বিসিবি একাদশ-জিম্বাবুয়ে
প্রস্তুতি ম্যাচ
স্পোর্টস রিপোর্টার
জাতীয় দলের কোনো ক্রিকেটার ছিল না। ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফর্ম করা বড়ো তারকা ক্রিকেটারদের কেউ ছিলেন না। বিসিবি একাদশের আকর্ষণ বলতে ছুটি সংক্ষিপ্ত করে ফেরা যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের ৬ ক্রিকেটার। কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে তাদের খেলা দেখতেই গতকাল সকালে বিকেএসপিতে হাজির হন জাতীয় দলের দুই নির্বাচক। ম্যাচের বয়স ৩০ পার না হতেই তাদের চোখেমুখেও বিরক্তির ছায়া দেখা গেল।
কারণ রানপ্রসবা খ্যাত এই মাঠের উইকেট গতকাল ধরা দিয়েছে মরা-প্রাণহীন উইকেটে। নতুন বলে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, শরীফুল ইসলাম প্রাণান্ত চেষ্টা করেও বল তুলতে পারছিলেন না। বারবার পানি খেতে দেখা গেছে তাদের। তৃতীয় বোলার হিসেবে আসা পেসার সুমন খানের বলও সাদামাটা ছিল। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠের উইকেটে মূলত প্রাণের অভাব ছিল। এমন নির্জীব উইকেটেই দিনভর ব্যাটিং অনুশীলন করেছে জিম্বাবুয়ে। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৯১ রান। মুম্বা ৫৪ ও এইন্সলে ২৫ রানে ব্যাট করছেন।
বিসিবি একাদশের তিন পেসার ৩৯ ওভার বোলিং করেছেন। উইকেটের দেখা পেয়েছেন শুধু শরীফুল। এক উইকেট পাওয়া এই বাঁ-হাতি পেসার সর্বোচ্চ ১৫ ওভার বোলিং করেন। ফলো থ্রুতে ফিল্ডিং করে হাতে ব্যথা পাওয়া এই তরুণও দিনশেষে জানিয়েছেন, এই উইকেটে বোলিং করা কঠিন। পচেফস্ট্রুমে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে দুরন্ত বোলিং করা শরীফুল গতকাল বলেছেন, ‘এখানে বাউন্স নেই। এখানে যেরকম উইকেট আমরা আশা করেছিলাম সেরকম না। আমরা যে উইকেটে বোলিং করে এসেছি সেসব আর এই উইকেট ভিন্ন। এসব উইকেটে পেস বোলাররা আসলে কখনো মন মতো বোলিং করতে পারে না। এখানে অনেক বাড়তি এফোর্ট দিতে হয়।’
শাহাদাত হোসেন দিপু ১৬ রানে তিনটি, আল-আমিন জুনিয়র দুটি ও শরীফুল একটি উইকেট নিয়েছেন। লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব রান দিলেও দিনের শেষভাগে ভালো বোলিং করেছেন। যদিও উইকেটের দেখা পাননি। আরেক লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। তিনিও উইকেটশূন্য ছিলেন।
জিম্বাবুয়ে শিবিরে অবশ্য দিন শেষে স্বস্তিই দেখা গেল। সফরকারীদের হয়ে হাফ সেঞ্চুরি করা কার্ল মুম্বা বলেছেন, দিনটা ছিল ভারসাম্য পূর্ণ। ব্যাটিং অনুশীলনটা তাদের ভালোই হয়েছে। প্রস্তুতির দিক থেকে তুষ্ট তারা।
জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা উইকেটে ছিলেন, রান পেয়েছেন অনেকেই। লাঞ্চের আগে উইকেটের দেখাই পায়নি বিসিবি একাদশ। অধিনায়ক আল-আমিন এসে লাঞ্চের পর ব্রেক থ্রু দেন। তার অফ স্পিনের শিকার হয়ে ফিরেন মাবাউরে। তিনি ৪৫ রান করেন। শাহাদাত হোসেন দিপু থামান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনকে (১০)। এই অফস্পিনার পরে আরও দুটি উইকেট নিয়েছেন। চাকাভা, মুতুমবোজি তার শিকার হন। ইনিংস সর্বোচ্চ ৭০ রান করে কাসুজা রান আউট হয়েছেন। শরীফুল ব্রায়ানকে (১৭), আল-আমিন মারুমাকে (৩৪) ফেরত পাঠালে ২২৬ রানেই ৭ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। পরে আর বিপদ হতে দেননি মুম্বা ও এইন্সলে। তারা ৬৫ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন। আজ দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নামতে পারে বিসিবি একাদশ। একটা টেস্ট দলের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ জয়ী আকবর-মাহমুদুল হাসান জয়-পারভেজ হোসেন ইমনদের ব্যাটিংয়েই ভবিষ্যত্ দেখার সুযোগ বাংলাদেশের ক্রিকেটের।