মো. শফিকুল ইসলাম
করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে সারা বিশ্ব। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে হিমশিম খাচ্ছে চীন সরকার। চীনে অবস্থিত বিদেশি নাগরিকেরা ভয়ভীতি ও আতঙ্কে বসবাস করছে। হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান বাদবাকি পৃথিবী থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। সকল প্রকার বিমান, রেল, বাসসহ যানবাহন আসা-যাওয়া সেখানে নিষেধ। আটকা পড়েছে কয়েক হাজার বিদেশি নাগরিক।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুর সময় ভয়াবহ যন্ত্রণার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। কী এক বিভীষিকাময় সময় পার করছে গোটা বিশ্ব! মুত্যুর পূর্বে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রতঙ্গ তীব্রভাবে অনবরত কাঁপতে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শকগণ করোনা ভাইরাসকে নিয়ে যে ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন তা খুবই উদ্বেগজনক এবং বলেছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের। দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দেশগুলো মারাত্মক বিপজ্জনক অবস্থায় আছে। ঐসব দেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে করোনার সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ হওয়া রোগটির নাম দিয়েছে কোভিড-১৯। ইতোমধ্যে চীন রোবটের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিত্সা ও সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। চীন একটি মুঠোফোন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে। এই অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে মানুষ জানতে পারবে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন কি না। এজন্য ব্যবহারকারীকে তার মোবাইল ফোন নম্বর এবং আইডি নম্বর ব্যবহার করতে হবে। করোনা ভাইরাসের তথ্য জানতে বিজ্ঞানীরা মানচিত্রও আবিষ্কার করছে। এই মানচিত্র দিয়ে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি জানা যাবে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন। এমনকি কেউ কেউ পোষা প্রাণীকে মাস্ক পরাচ্ছেন। সর্বোপরি চীন ফেরত বাংলাদেশি ও বিদেশি লোকদের যেভাবে বিমানবন্দরে স্ক্যানিং করা হয়েছে তাকে বলা চলে সন্তোষজনক। কিন্তু বেইজিং থেকে বিমানের ফ্লাইট চালু আছে। যেটা উদ্বেগের কারণ মনে হচ্ছে। তাই আমাদের সবারই সচেতনতার সঙ্গে বসবাস করা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন যাপন করা উচিত। বাংলাদেশে আপাতত করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি না থাকলেও সাবধানতা ও অতিসতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।
নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও জীবন নিরাপত্তার স্বার্থে দেশগুলোর সম্মিলিত ও যোগাযোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। করোনা ভাইরাস নিয়ে কোনো গুজব ছড়ানো ঠিক নয় বরং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত নয় বরং সচেতন হোন, সতর্ক থাকুন। এটা এজন্য প্রয়োজন যে, যাতে বিদেশ থেকে কোনো করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী না আসে। সরকার বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন রুম চালু করছে। কিন্তু আমি মনে করি প্রত্যেকটি জেলায় কোয়ারেন্টাইন কক্ষ না খুলে ঢাকার যে কোনো একটি হাসপাতাল ভাড়া করে সম্পূর্ণভাবে এটিকে কোয়ারেন্টাইন হাসপাতাল ঘোষণা করা উচিত। এ বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
n লেখক : সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়