স্বল্পন্নোত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে গেলে বাংলাদেশের সামনে যেমন কিছু চ্যালেঞ্জ দাঁড়াবে তেমনি কিছু সুযোগও তৈরি হবে। রপ্তানি বাজার সুবিধা, স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা না থাকলেও সে সময় বাংলাদেশে বড়ো বিনিয়োগ সম্ভাবনা তৈরি হবে। ইমেজ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হবে। তবে এরজন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
গতকাল শেরেবাংলানগরস্থ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) নাজিয়া-সালমা সম্মেলন কক্ষে ‘ইফেকটিভ পার্টনারশীপ উইথ মিডিয়া ফর সাসটেনেবল গ্রাজুয়েজন’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা একথা বলেন। সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এ কর্মশালা উদ্বোধন করেন ইআরডি সচিব মো. মনোয়ার আহমেদ। আরো বক্তব্য দেন ইআরডির সাবেক সচিব কাজী শফিকুল আযম, যুগ্ম সচিব আবদুল বাকী, ড. রেজাউল বাশার সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
ইআরডি সচিব মো. মনোয়ার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এলডিসি থেকে উত্তোরণের জন্য তিনটি শর্তই পূরণ করেছে। আগামী ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসবে। এর পরেও ২০২৪ সাল পর্যন্ত আগের সুযোগ-সুবিধা পেতে থাকবে। এর পরবর্তী সময় বাংলাদেশের সামনে বাণিজ্য এবং বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো তৈরি হবে সেগুলো নিয়ে এখনই সরকার গবেষণা করছে। কীভাবে নতুন বাজার সুবিধা তৈরি করা, বৈদেশিক সহায়তার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করাসহ অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ যখন চূড়ান্তভাবে এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাবে তখন নিজস্ব সক্ষমতাও বাড়বে। তখন ক্রেডিট রেটিংয়ে বাংলাদেশ ওপরে উঠে আসবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এদেশে আসতে আর দ্বিধা করবে না। আমাদের বড়ো বড়ো ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা বাড়বে। বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ এখন ১৪ শতাংশের মতো। এলডিসি পরবর্তী সময়ে এটি ২০ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে যা ঝুঁকির মাত্রার চেয়ে অনেক নিচে। আমাদের রপ্তানি কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। নতুন বাজার সুবিধা তৈরিসহ পণ্যে বৈচিত্র্যকরণ এবং বৈশ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানান তারা।