টেস্টে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছেন আল-আমিন!

প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র

স্পোর্টস রিপোর্টার

দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। ফলাফল সবসময়ই কঠিন গন্তব্য। তার পরও গতকাল শেষ দিনে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামার একটা সুযোগ প্রায় তৈরি করে ফেলেছিল জিম্বাবুয়ে। লাঞ্চের আগেই বিকেএসপিতে ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে বিসিবি একাদশ। হুট করেই গজিয়ে উঠা সম্ভাবনাকে আর আলোর মুখ দেখতে দেননি আল-আমিন জুনিয়র ও তানজিদ হাসান তামিম। দুই জনই সেঞ্চুরি করেছেন।

ষষ্ঠ উইকেটে তাদের ২১৯ রানের বিশাল জুটিই ম্যাচের আড়ালে জিম্বাবুয়ের প্রস্তুতির সীমারেখা টেনে দেয়। চা-বিরতির পর পরই বিসিবি একাদশের অধিনায়ক আল-আমিন জুনিয়র সেঞ্চুরি পূর্ণ হলে দুই দলের করমর্দনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রস্তুতি ম্যাচ।  জিম্বাবুয়ে অসন্তুষ্ট নয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টের প্রস্তুতিতে। প্রথমদিন ৯০ ওভার ব্যাটিং করেছে দলটি। গতকাল ৫৯.৩ ওভার বোলিংও করেছে তারা। ২৮৮ রান তুলতে বিসিবি একাদশ ৫ উইকেট পতনের ফলে জিম্বাবুয়ের বোলাররাও কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

ম্যাচ শেষে বিকেএসপিতে আল-আমিন জুনিয়র অবশ্য মুমিনুল হকদের জন্য বার্তা দিতে ভুল করেননি। তার দৃষ্টিতে, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মিরপুরে ২২ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে চলা একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশ দাপুটে জয়ই পাবে।

তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় জিম্বাবুয়ে দল ও আমরা এখন যে ক্রিকেট খেলছি তাতে আমরা ভালোভাবে সামলাতে পারব এবং খুব আধিপত্য বিস্তার করে টেস্টটা জিততে পারব বলে মনে হয়।’

তবে স্পিন আক্রমণকেই আশ্রয় বানাতে পরামর্শ দিয়েছেন আল-আমিন জুনিয়র। যার যৌক্তিক কারণও রয়েছে। অতীতে স্পিনে জিম্বাবুয়েকে অনেকবার কাবু করেছিল বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচে নিষ্প্রাণ উইকেটেও শাহাদাত হোসেন দিপু, আল-আমিন জুনিয়রের স্পিনেই ৫ উইকেট দিয়েছেন ক্রেইগ আরভিনরা।

মিরপুরে একই পথ অবলম্বনই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। বিসিবি একাদশের অধিনায়ক বলেছেন, ‘আপনি যদি দেখেন আমাদের মূল শক্তি কিন্তু স্পিন। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি অবশ্যই আমাদের মূল অস্ত্র স্পিনই হবে।’

গতকাল সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে নাঈম শেখ (১১), মাহমুদুল হাসান জয় (১) উইকেট দিয়ে ফিরেছেন। শাহাদাত হোসেন দিপু (২), আকবর আলী (১) দ্রুত ফিরলে চাপে পড়ে যায় বিসিবি একাদশ। তানজিদ হাসান তামিমকে নিয়ে দিনের বাকি সময়টা নির্বিঘ্নেই কাটিয়েছেন আল-আমিন জুনিয়র। বিশ্বকাপ খেলে আসা তামিমের ব্যাটেই ছিল আক্রমণের তেজ। ৪০ বলে হাফ সেঞ্চুরি, ৮৭ বলে সেঞ্চুরি করেন এ বাঁহাতি।

উইকেটের চারপাশে বাহারি সব শটস খেলেছেন। দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ে ৯৯ বলে অপরাজিত ১২৫ রান করেছেন তামিম। যেখানে ছিল ১৪টি চার ও ৫টি ছয়। আল-আমিন জুনিয়র ১৬টি চারে অপরাজিত ১০০ রান করেন।

সিনিয়র ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটা তামিম উত্সর্গ করেছেন বগুড়ার প্রয়াত কোচ মোসলেম উদ্দিনকে। কদিন আগেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন বগুড়ায় ক্রিকেটের মশাল জ্বালিয়ে রাখা নিবেদিত প্রাণ এ কোচ।