হটন-ফ্লেচারের

সতীর্থ এখন জিম্বাবুয়ের ম্যানেজার

জান-ই-আলম

মুখভর্তি সাদা দাড়ি। সৌম্য দর্শন অবয়ব। জিম্বাবুয়ে দলটার সঙ্গে এই ভদ্রলোকের উপস্থিতি সবসময় আলাদাভাবে নজর কাড়ে। গড়ন, মুখশ্রী মিলে পুরোই আলাদা। ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষজনের একটা ছাপ তার মাঝে স্পষ্ট।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) গতকাল সকালে জিম্বাবুয়ের ড্রেসিংরুমের সামনে বসে ইংরেজি পত্রিকা পড়ছিলেন তিনি। আসলে সুডোকো খেলাটা খেলছিলেন খুব মনোযোগ দিয়ে। কৌতূহল মেটাতে এগিয়ে যেতেই স্বাগত জানিয়েছেন। পরে মিনিট দশেকের আলাপে নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত জানালেন। ভদ্রলোকের নাম দিলীপ চৌহান। নামের মাঝেই স্পষ্ট উপমহাদেশের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা। জিম্বাবুয়ে দলের ম্যানেজার তিনি।

৭২ বছর বয়সি দিলীপ চৌহান ভারতীয় বংশোদ্ভূত। গুজরাট তার পূর্বপুরুষের বসতি। ১৯১১ সালে তার দাদা জিম্বাবুয়ে চলে গিয়েছিলেন স্বপরিবারে। তারপর থেকে সেখানে বেড়ে উঠেছে পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম। দিলীপ চৌহান গুজরাটি ভাষা বেশ জানেন, তবে হিন্দিতে অতটা স্বাচ্ছন্দ্য নন। জিম্বাবুয়ে দলের বর্তমান হেড কোচ লালচাঁদ রাজপুতও ভারতীয়। হিন্দিতে ভালো পারেন না বলেই রাজপুতের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা হয় দিলীপ চৌহানের। বিয়ে করেছেন গুজরাটের মেয়ে। স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন থাকলেও তার পরিবারের আর কেউ এখন ভারতে নেই। শ্বশুরবাড়িতে কয়েকবার গিয়েছেন বটে। যার মাধ্যমেই ভারত দর্শন হয়েছে তার। তবে শেকড়ের টান খুব একটা অনুভব হয় না এখন, কারণ পরিবারসমেত জিম্বাবুয়েতে থিতু তিনি।

সাবেক এই ক্রিকেটার অবশ্য জিম্বাবুয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি। তবে ঘরোয়া ক্লাব ক্রিকেটে খেলেছিলেন খেলোয়াড়ি জীবনে। সেটাও ৭০-এর দশকে। ঐ সময় ক্লাব ক্রিকেটে তার সতীর্থ ছিলেন ডেভ হটন, ডানকান ফ্লেচারের মতো জিম্বাবুয়ের কিংবদন্তিরা। গতকাল দিলীপ চৌহান বলছিলেন, ‘আমি বড়ো পর্যায়ে খেলিনি। জাতীয় দল বা এমন কিছু। ক্রিকেট খেলেছি ঘরোয়া ক্লাব পর্যায়ে। ঐ সময় আমার সঙ্গে খেলেছিলেন ডেভ হটন ও ডানকান ফ্লেচাররা। তখন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, উঁচুমানের ক্রিকেট হতো।’

ডেভ হটন বিদেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের প্রথম টেস্টের অধিনায়ক। দেশটির ব্যাটিং সুপারস্টার ছিলেন তিনি। ১৯৯৪-৯৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২৬৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন হটন। যা টেস্টে জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। কোনো শূন্য ছাড়া টেস্টে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৬৪ রানের মালিক হটন। বর্তমানে ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব ডার্বিশায়ারের হেড অব ক্রিকেট হিসেবে কাজ করছেন হটন। জিম্বাবুয়ের সাবেক ক্রিকেটার ডানকান ফ্লেচার ভারতের হেড কোচ ছিলেন চার বছর। ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কোচও ছিলেন তিনি।

ক্লাব ক্রিকেট, জাতীয় প্রতিযোগিতায় এবং বিদেশি দলগুলোর লিয়াজোঁ অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন দিলীপ চৌহান। কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে দুই বছর ধরে জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯, ‘এ’ দল, জাতীয় দলের ম্যানেজার দিলীপ চৌহান।

বাংলাদেশে এটি তার তৃতীয় সফর। এর আগে ২০০৪ ও ২০০৯ সালে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। এখানে এসে ভারতের ছোঁয়া পাচ্ছেন তিনি। দিলীপ চৌহান বলেন, ‘এখানে ভালোই লাগে। ভারতের মতোই মনে হয়। পরিবেশ বেশ মিল আছে। বাংলাদেশের আতিথেয়তা দারুণ। এখানকার মানুষ বেশ পরিশ্রমী। প্রচুর ছেলে ক্রিকেট খেলে। ক্রিকেটও বেশ উন্নতি করছে। আমি উপভোগ করছি।’