একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
শেষ মুহূর্তেও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর পক্ষে তেমন তত্পরতা নেই। আওয়ামী লীগ সরবে আর ঐক্যফ্রন্ট আছে নীরবে। আওয়ামী লীগের পোস্টার, ফেস্টুন এবং ব্যানারে ভরে গেছে রাঙ্গুনিয়ার প্রত্যন্ত এলাকা। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট বিএনপি’র ধানের শীষের চিহ্ন নেই কোথাও। মাইকিং আর লিফলেট বিতরণে গ্রাম পাড়া-মহল্লায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের ড. হাসান মাহমুদের প্রচারণায় চষে বেড়াচ্ছে নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগের নৌকায় ভোট চাইতে এসেছেন চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান তারকারাও। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরন্ধীপ ইউনিয়নসহ এভাবেই চলছে প্রচার-প্রচারণা। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় রাঙ্গুনিয়া এখন মুখর।
চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের, গোচরা চৌমুহনী, রোয়াজারহাট, পোমরা, ইছাখালী এবং মরিয়মনগর চৌমুহনী এলাকায় নৌকা প্রতীকের লিপলেট বিতরণ করে প্রার্থী ড. হাসান মাহমুদের পক্ষে ভোট চেয়েছেন বেশ কয়েকজন চিত্রতারকাও। এতে এখানে উত্সবের মাত্রা যোগ হয়েছে। চলচ্চিত্রের ফেরদৌস, রিয়াজ, তারিন, অরুণা বিশ্বাস ও সাইমনসহ অনেক খ্যাতিমান তারকা পথসভা করে ড. হাছানের নৌকায় ভোট চাইলেন। বিজয়ের মাসে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশ রক্ষা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে রাঙ্গুনিয়ার মানুষ নৌকায় ঐক্যবদ্ধ বলেছেন ড. হাসান মাহমুদ।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেও এখানে ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের কোনো ব্যানার-পোস্টার কোথাও নেই। অনেকটা গোপনেই চলছে তাদের গণসংযোগসহ নির্বাচনী প্রচারণা। গণসংযোগে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আলম নেতা-কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগে সরকারের দুর্নীতিসহ নেতিবাচক কার্যকলাপকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি গণসংযোগ করতে গিয়েও প্রতিপক্ষের তোপের মুখে পড়ছেন। কোথাও দাঁড়াতে পারছে না বলে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা অভিযোগ করেন। উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের নিশ্চিন্তাপুর সিএনজি অটোরিকশা স্টেশন এলাকায় গণসংযোগকালে প্রতিরোধের মুখে পড়েন বলে প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, এলাকায় ঐক্যফ্রন্টের কোনো জনসমর্থন নেই। বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের মাঝে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল রয়েছে। নিজেদের মধ্যেই বিবাদ চলছে।
এই আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্যান্য কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও তারা প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেই। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর হাতপাখা প্রতীকের নেয়ামত উল্লাহ, এনপিপি’র আম প্রতীকের জিয়াউর রহমান, ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকে আবু নওশাদ নঈমীর বিক্ষিপ্ত কিছু পোস্টার ব্যতীত দৃশ্যমান কোনো প্রচারণা নেই। জেএসডি’র মশাল প্রতীকের অপর প্রার্থী মাহবুবর রহমানের কোনো প্রচারণাই নেই।