ম্যানোয়েল প্রণীত
প্রথম আঞ্চলিক বাংলা শব্দকোষ
সংকলন ও সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল কাইউম
মধ্যমা মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন্স লিমিটেড
প্রচ্ছদ: সোহেল আশরাফ। মূল্য: ২৭৫ টাকা
পর্তুগিজ মিশনারী ম্যানোয়েলের পূর্ণ নাম ‘ম্যানোয়াল-দা-আস্সুম্প সাঁও’। তিনি পর্তুগালের লিসবনের এভোরা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে পূর্ব ভারতে আসেন এবং ঢাকা জেলার ভাওয়ালে গাজীপুরের নাগরী ইউনিয়নে ‘সন্ত নিকোলাস দে তোলেন্তিনো’ গির্জার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বাংলাদেশে এসে বাংলা ভাষা শিখে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন বাংলায়—একটি ‘বাংলা-পর্তুগিজ ভোকেবুলারিও’ এবং অপরটি ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’। দুটি গ্রন্থই পর্তুগালের লিসবন শহরে ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়।
অভিধান অর্থ শব্দ ও শব্দার্থের সম্ভার। কিন্তু অভিধান একদিকে যেমন ভাষাতাত্ত্বিক তথ্যের সমাহার, অন্যদিকে তা সমকালীন সামাজিক সংবাদেরও আধার। সতেরো শতকে বিদ্যাচর্চার যে প্রসার ঘটেছিল, তার পরিচয় অভিধানে অন্তর্ভুক্ত শব্দগুলোর মধ্যে পাওয়া যায়।
ম্যানোয়েলের শব্দকোষের শব্দাবলি মানুষের মুখের কথা থেকেই সংগৃহীত হয়েছে। এটি পক্ষান্তরে লৌকিক ভাষারই শব্দকোষ। সেসময় মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত বা বাংলা ভাষায় আত্মীকৃত আরবি-ফারসি বা তুর্কি শব্দের সংখ্যা কম ছিল না। এমনকি পর্তুগিজ শব্দের ব্যবহারও তখন শুরু হয়েছে। ম্যানোয়েলের অভিধানে শব্দ-সম্ভারও বহুবিচিত্র। তত্সম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি এবং বাংলার অঞ্চলভিত্তিক শব্দাবলিই এতে সন্নিবিষ্ট হয়েছে। ভাষাতত্ত্ববিদদের কাছে এর গুরুত্বও কম নয়।