বঙ্গবন্ধু শহিদ স্মৃতি হকি

সেনাবাহিনীকে হারিয়ে নৌবাহিনী চ্যাম্পিয়ন

বঙ্গবন্ধু শহিদ স্মৃতি হকির ফাইনালটা এ রকম একপেশে হবে ভাবা যায়নি। বাস্তবে তাই হয়েছে। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনালে নৌবাহিনী ৬-৩ গোলে সেনাবাহিনীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হয় ফাইনাল। শীত কাটিয়ে ফাল্গুনের হাওয়া বইলেও গরমের তেজ টের পেয়েছেন নৌবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর খেলোয়াড়রা। রোদের তাপে টার্ফের গরম যেন গায়ে এসে পড়ছিল। সব তেজ পেছনে ফেলে দুই দলের লড়াইটা শুরুতে উত্তাপ ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নৌবাহিনীর পালেই হাওয়া লাগতে শুরু করেছিল।

জাতীয় দলের প্রায় ডজনখানেক খেলোয়াড় নৌবাহিনীতে খেলছে। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে আছেন তারকা খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি। কোচ মামুন উর রশিদের তালিমে মইনুল ইসলাম কৌশিক, রাব্বি, সারোয়ার, আশরাফুল, গোলকিপার নিপ্পন, রোমান সরকার, শিতুল প্রমুখরা দুর্দান্ত প্রতাপের সঙ্গে লড়াই করে গেলেন আর গোলের পর গোল করলেন।

নৌবাহিনীর মতো সেনাবাহিনীতে জাতীয় দলের এত খেলোয়াড় না থাকলেও তাদের দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সংখ্যাটাও কম নয়। কোচ আজীজ উল্লাহ হায়দার জামালের খেলোয়াড়রা হার না মানা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সুযোগগুলো সেভাবে কাজে আসেনি, ভাগ্যটাও সেনাবাহিনীর পক্ষে ছিল না। ম্যাচের উত্তেজনায় এক দুইবার আম্পায়ার শাহবাজের সঙ্গে খেলোয়াড়দের মধ্যে বাদানুবাদ হলেও সেটিও স্থায়ী হয়নি।

চার কোয়ার্টারের খেলায় সপ্তম মিনিটেই অধিনায়ক জিমির পেনাল্টি কর্নার সারোয়ারের স্টিক হয়ে আশরাফুলের হিটে গোল হয় (১-০)। ১২তম মিনিটে নৌবাহিনীর মাহবুব একা স্টিকের কাজ দেখিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পোস্টে হিট করেন (২-০)। সেনাবাহিনীর মনোজ বাবুর গোল (১-২) ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা দেখালেও পালটা তিন গোলে জিমি, মইনুল ইসলাম, আবেদ নৌবাহিনীকে এগিয়ে দেন (৫-১)।

এরপরও লড়াই হয়েছে। সেনাবাহিনীর অধিনায়ক মিলন গোল করেন (২-৫), নৌবাহিনীর আশরাফুল নিজের দ্বিতীয় গোল করলেন (৬-২), ম্যাচের শেষ গোলটি করলেন সেনাবাহিনীর নাঈম উদ্দিন (৩-৬)।

চ্যাম্পিয়ন নৌবাহিনীর মইনুল ইসলাম কৌশিক টুর্নামেন্ট সেরা এবং মাহবুব হোসেন ৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণ করেন টুর্নামেন্ট পৃষ্ঠপোষক ওয়ালটন গ্রুপের পরিচালক ইকবাল বিন আনোয়ার।