নাটোর-২ আসনে প্রার্থী বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবির প্রচারণায় আওয়ামী লীগ কর্মীরা আবার হামলা চালিয়েছে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জনসংযোগের সময় এই হামলা চালায় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এ হামলায় বিএনপির অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। এ সময় প্রাণ রক্ষায় প্রার্থী ছবি স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন। প্রায় দুই ঘন্টা পর নেতা কর্মীরা পুলিশের সহায়তায় সাবিনা ইয়াসমিন ছবিকে অক্ষত অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে আসে।
ধানের শীষের প্রার্থী ছবি জানান, প্রচারণা শুরুর পর থেকে মোট ৫বার তার গণসংযোগে আওয়ামী লীগের হামলায় তিনি নিজেসহ প্রায় ৫০জন নেতা কর্মী আহত হয়। এরপর তিন দিন প্রচারণা বন্ধ রেখেছিলেন। সোমবার রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনা ক্যাম্প অধিনায়ক এবং বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসারকে অবহিত করে বিকেলে শহরের তেবাড়িয়া এলাকায় নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জনসংযোগে বের হন। এ সময় তেবাড়িয়া এলাকার আরও শতাধিক কর্মী সমর্থক তার সঙ্গে যোগ দেয়। তিনি তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হুগোল বাড়িয়া ব্রিজ থেকে তেবাড়িয়া ধান হাটার দিকে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এ সময় নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। তিনি নিজের নিরাপত্তায় স্থানীয় একটি ঔষধের দোকানে ঢুকে অবস্থান নেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে আগলে রাখে।
এই হামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ব্যাপারী, যুবদল কর্মী কামাল, রুবেল এবং সাগর সহ মোট পাঁচ জন আহত হয়েছে। সাবিনা ইয়াসমিন ছবি প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশি সহায়তায় সেখান থেকে বের হয়ে তার বাড়িতে আসেন।
ছবি বলেন, 'তিনি বারবার আক্রান্ত হওয়ার পরে প্রশাসনকে জানিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বের হই। তবু আবারও আমার ওপর হামলা করা হলো। আমাকে কোনভাবেই প্রচার করতে এবং পোস্টার লাগাতে দেওয়া হচ্ছে না। মাইক ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমি নিজের বাড়ির ছাদে মাইক লাগিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি।'
তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলে জানিয়ে দেওয়া হোক তাহলে তিনি আর ঘর থেকে বেরই হবেন না।
ইত্তেফাক/নূহু