স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ হতে চার ফুটবলারকে ব্রাজিলে দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনে পাঠানোর বিষয়টি আগেই চূড়ান্ত হয়ে আছে। এবার চার ফুটবলারের সঙ্গে আরো চার ফুটবলার, সব মিলিয়ে ৮ ফুটবলারকে ব্রাজিলে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত হয়ে থাকা চার ফুটবলার হলেন কুড়িগ্রামের ওমর ফারুক মিঠু, রংপুরের লুত্ফর রহমান নাহিদ, নাজমুল আকন্দ, রাজশাহী গোদাগাড়ির যোগেন লাকড়া। এই চার কিশোর ফুটবলার এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে রয়েছে। তবে এই চার ফুটবলারের সঙ্গে আরও চার ফুটবলারকে ব্রাজিলে পাঠানোর জন্য এরই মধ্যে ঢাকাস্থ ব্রাজিল দূতাবাসে বৈঠক হয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় হয়ে নতুন চারজনের নাম ব্রাজিল দুতাবাস থেকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনোনীত ফুটবলারদের কোচ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানিয়েছেন, গত বৃস্পতিবার ব্রাজিল দূতাবাসে আলোচনা হয়েছে। তারা জানিয়েছে নতুন নামসহ ৮ জনের নাম পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে আসলে জানা যাবে সব মিলিয়ে কত জন যাচ্ছে। যদি নতুন চারজনের নাম অনুমোদন হয় তাহলে ৮ জন যাবে। অনুমোদন না হলে চারজনই যাবেন। তবে জানা গেছে এই মহতী উদ্যোগের উদ্যোক্তা সাবেক তারকা স্ট্রাইকার শেখ মো: আসলাম।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল কমিটির সদস্য সাবেক তারকা ফুটবলার খন্দকার রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন আট দশজনের নাম পাঠালেও এখন চারজনই যাবে। যদি সুযোগ হয় বেশি যেতে পারে। তবে আগামী বছর সংখ্যাটা অনেক বেড়ে যাবে। ৭৩ সালে মোহামেডানে খেলেছেন রকিব। ৭৭ সালে মোহামেডান অধিনায়ক ছিলেন লেফট ফুলব্যাক রকিব। ৭৮, ৭৯, ৮০ সালে আবাহনীর জার্সি গায়ে খেলেন এই ফুটবলার। জাতীয় দলে খেলেছেন ’৭৬ সাল হতে। এখন ফুটবলের সঙ্গেই কাজ করছেন। আসলাম রকিবরা ব্রাজিল দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বসে ছিলেন। রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন ব্রাজিলের কোন একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেবে কিশোর ফুটবলারা, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে যারা যাবেন তাদের এক বছরের প্রশিক্ষণ থাকা খাওয়া এবং পকেট খরচও দেয়া হবে। আমরা চেয়েছিলাম, একজন গোলকিপার পাঠাতে, পাইনি।
তার চোখে ব্রাজিলে কিশোর ফুটবলারদের জন্য প্রশিক্ষণের দুয়ার খুলে গেলে আগামীতে বাংলার আরও ফুটবলার এই দুয়ারে প্রবেশ করতে পারবে। দশ-পনেরো জনের দলও যেতে পারে প্রশিক্ষণের জন্য। রকিবুল জানিয়েছেন ‘আমরা চেষ্টা করব একটা সময় ব্রাজিলের কোচ এনে এখানকার কোচদের প্রশিক্ষণ দিতে।’ কবে নাগাদ তরুণ ফুটবলাররা প্রশিক্ষণ নিতে যাবে, সে প্রসঙ্গে রকিবুল বলেন,‘মার্চে যাবে।’
বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলারা যদি ব্রাজিলের ভালো কোনো ফুটবল একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পায়, তাহলে দেশের ফুটবল উন্নয়নের কাজে লাগবে। যারা যাচ্ছেন তারা একাডেমিতে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে সেখানে খেলার সুযোগও পেতে পারেন। ব্রাজিলের ফুটবলাররা ঢাকার ফুটবল লিগে খেলেছেন। এখনো অনেকে খেলছেন। ব্রাজিলীয়ান কোচ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক ব্রাজিল থেকে কোচেস ট্রেনিং করে এসেছিলেন। ব্রাজিলের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কটা অনেক নিবিড়। বিশেষ করে ব্রাজিলীয়ান ফুটবল সমর্থক এ দেশের ঘরে ঘরে রয়েছে।