প্রবেশ ফি বেশি আদায়ের অভিযোগ
সামেদুল ইসলাম তালুকদার, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা
নালিতাবাড়ী উপজেলার গারোপাহাড়ের মধুটিলা ইকোপার্কে এখন দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। বিনোদনের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটে আসছেন ভ্রমণ পিপাসু মানুষ। এদিকে প্রবেশমূল্যসহ অন্যান্য ফি বাড়ার কথা বললেন দর্শনার্থীরা।
১৯৯৯ সালে ময়মনসিংহ বন বিভাগের আওতায় ৩৮০ একর পাহাড়ি-সবুজ বনভূমি ঘিরে স্থাপন করা হয় পর্যটনকেন্দ্র ‘মধুটিলা ইকোপার্ক’। এই পার্ককে ঘিরে নির্মাণ করা হয় ওয়াচ টাওয়ার, রেস্ট হাউজ মহুয়া, শিশুপার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা, কৃত্রিম লেক, স্টার ব্রিজসহ বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য।
শুক্রবার পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক শতাধিক বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাসসহ নানা ধরনের যানবাহন প্রবেশ করেছে। আগত বাস, মাইক্রোবাস ও মোটসাইকেলের (পার্কিং) প্রবেশমূল্য বেশি নেওয়া হচ্ছে।
শেরপুর প্রতিভা শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীরা ও মধুপুরের সান সাইন কিন্ডারগার্ডেন এর পরিচালক রাসেল জানান, পার্কে বেড়াতে এসে ভালো লাগছে। তবে এখানে প্রবেশমূল্য বেশি। সেবা এবং সুবিধা বৃদ্ধি করলে আরো আনন্দ পেতাম। বিশেষ করে খাবার পানির সংকট ও টয়লেট সুবিধা পর্যাপ্ত নয়।
নেত্রকোনার ধোবাউরা থেকে পিকনিকে আসা বাসের চালক রফিকুল ইসলাম জানান, যেখানে গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্রে যাত্রীসহ বাসে প্রবেশ ফি ৫০০ টাকা, এখানে মধুটিলা ইকোপার্কে নেওয়া হচ্ছে ৮০০ টাকা। পার্কটির আধুনিকায়নে নিচ্ছে না কোনো উদ্যোগ। গেইটের সামনে লেখা নেই প্রবেশের মূল্যতালিকা।
ইজারাদার আবদুর রহমান প্রবেশমূল্যসহ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা অস্বীকার করে জানান, বাস পার্কিং ২০০ টাকা আর যাত্রী বাবদ আলাদা ৬০০ টাকা করে রাখা হয়। অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও একইভাবে ব্যাখ্যা দেন তিনি। মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, আমার জানা মতে চার্টে উল্লেখিত নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী প্রবেশমূল্য আদায় করার কথা। তিনি আরো জানান, ইকোপার্ক হিসেবে বিলুপ্তপ্রায় ও মূল্যবান প্রজাতির গাছপালা রোপণ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।