ভেট্টোরির আস্থার প্রতিদান দিলেন নাঈম

জান-ই-আলম

র্যাংক টার্নার উইকেটে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেকেই মাত করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গত দুই বছরে বল হাতে এই অফস্পিনারের ফর্ম পড়তির দিকে। মিরাজের কার্যকারিতা কমতে দেখে ধীরে ধীরে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে দীর্ঘাকায়, লিকলিকে গড়নের নাঈম হাসানের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে বাংলাদেশ। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি স্পিন কোচ হয়ে আসার পর নাঈমের ভাগ্য খুলতে শুরু করে।

গত বছর ভারত সফরে ইন্দোরে না থাকলেও ইডেনে অফস্পিনার নাঈমকে একাদশে রাখে বাংলাদেশ। কনকাশনের কারণে বোলিং করতে পারেননি তিনি। তার কনকাশন সাব হিসেবে মিরাজই বোলিং করেছিলেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টের দল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছিলেন, ভেট্টোরি অফস্পিনার হিসেবে মিরাজের চেয়ে নাঈমকেই এগিয়ে রাখেন।

ভেট্টোরির পছন্দে আস্থা রেখে গতকাল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টে মিরাজকে বসিয়ে একাদশে রাখা হয় নাঈমকে। আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন এই তরুণ। গতকাল দিনভর ৩৬ ওভার বোলিং করেছেন তিনি। যার মধ্যে এক স্পেলেই টানা ৩২ ওভার বোলিং করেন। ৬৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে বড়ো ধাক্কাটা দিয়েছেন নাঈম। শেষ বিকেলে সেঞ্চুরিয়ান ক্রেইগ আরভিনকে আউট করে প্রথম দিনটা বাংলাদেশের দখলে রাখার কৃতিত্বও এই তরুণের।

লংগার ভার্সনে নাঈমের বোলিংয়ের কার্যকারিতা প্রমাণিত। লম্বা হওয়ায় উইকেট থেকে বাউন্স আদায় করতে পারেন। বিসিএলে সর্বশেষ ২ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শেষ ম্যাচেই দুই ইনিংসে ১৩ উইকেট। দারুণ ফর্ম নিয়ে টেস্টে এসে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন তিনি।

গতকাল মিরপুরের উইকেটে স্পিনারদের জন্য বলার মতো কোনো সাহায্য ছিল না। যেখানে বল হাতে বিবর্ণ ছিলেন বাংলাদেশের মূল অস্ত্র তাইজুল ইসলাম। বাঁ-হাতি স্পিনার ২১ ওভার বোলিং করে উইকেটশূন্য ছিলেন। রানও দিয়েছেন বেশ। ওভার প্রতি ৩.৫৭ গড়ে ৭৫ রান দেন তাইজুল। কিন্তু নাঈম ঠিকই একপ্রান্ত ধরে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। আটটি মেডেনসহ ওভার প্রতি ১.৮৮ হারে ৬৮ রান দিয়েছেন তিনি।

দিনের ৪৯তম ওভারে উইকেটের দেখা পান নাঈম। ব্রেক থ্রু এনে দেন দলকে। আরভিন-মাসাউরের ১১১ রানের জুটি ভাঙেন। তার বলেই দুইবার জীবন পাওয়া মাসাউরেকে কট অ্যান্ড বোল্ড করেছেন। তাকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন ব্রেন্ডন টেইলর। পরে সিকান্দার রাজাও উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক আরভিন শেষ বেলায় বোল্ড হন লাইন মিস করে।

উইকেট স্পিন-সহায়ক ছিল না। তাই এক জায়গায় বোলিং করার ব্রত নিয়েই নেমেছিলেন নাঈম। গতকাল দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বল্পভাষী এই অফস্পিনার বলেছেন, ‘আমার পরিকল্পনা ছিল শুধু এক জায়গায় বোলিং করা।’

ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই একটানা বোলিং করার চর্চা হয়েছে নাঈমের। তিনি বলেছেন, ‘অভ্যাসটা আমার জাতীয় লিগ থেকেই আছে। ওখানে আমি লম্বা স্পেল বোলিং করেছি। লম্বা স্পেলে ধৈর্য ধরে এক জায়গায় বোলিং করলে সাফল্য পাওয়া যায়।’

উইকেট ব্যাটিং-বান্ধব বলেই জানালেন ১৯ বছর বয়সি এই স্পিনার। তিনি বলেন, ‘এটা আসলে এতটা টার্নিং উইকেট ছিল না। ব্যাটিং বান্ধব উইকেট ছিল।’

আজ দ্বিতীয় দিনে দ্রুত জিম্বাবুয়ে অলআউট করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য। নাঈম বলেন, ‘দিনশেষ উইকেট পাওয়াটা লক্ষ্য ছিল। যত তাড়াতাড়ি অলআউট করতে পারি ততই ভালো। ওর উইকেট পাওয়ার পর টেল এন্ডার আছে। এখন চেষ্টা থাকবে যত তাড়াতাড়ি ওদের আউট করা যায়।’