রাজধানীতে বিএনপির মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে মিরপুর কাঁচাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টায় মিরপুর কাঁচাবাজারে বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগে রুহুল কবির রিজভী বক্তব্য দেন। মিছিলটি কিছুদূর অগ্রসর হলে পুলিশ পিছন দিক থেকে হঠাত্ ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে মিছিলে নেতৃত্বদানকারী দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সহসভাপতি ওমর ফারুক কাউসার, মোহাম্মদ এরশাদ, সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিত্সা গ্রহণ করছেন।
ফখরুলের নিন্দা
এদিকে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার আরো বেশি দানবীয় রূপ ধারণ করছে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয় বলেই বিনা ভোটের সরকার বিরোধী দল ও মতকে পরোয়া করছে না। মানুষের কল্যাণে কাজ না করে ক্ষমতার দাম্ভিকতায় ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে গোটা দেশকে দখলে নিতে চায় তারা। গতকাল এক বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে নিরবচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্রক্ষমতার স্বাদ পেতে বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা অপরাধে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। মিছিলে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশের এ হামলা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এক নগ্ন উদাহরণ।
হামলার আগে মিছিলপূর্ব এক পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে ভয়ানক অসুস্থ। তার ডায়াবেটিস সম্পূর্ণরূপে অনিয়ন্ত্রিত। খালি পেটেই ১৫-২০ এর মধ্যে ডায়াবেটিস উঠানামা করছে। তিনি কিছুই খেতে পারছেন না, দাঁড়াতে পারছেন না। এ অবস্থায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে মুক্তি দিয়ে সুচিকিত্সা করা না গেলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।