মোদির সঙ্গে আলোচনায় ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা তুলবেন ট্রাম্প

আগামীকাল সোমবার ভারত সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সফর ঘিরে ব্যাপক আয়োজন চলছে। সফরকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই আলোচনায় ট্রাম্প ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি উত্থাপন করবেন। হোয়াইট হাউজের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) করার পর মোদি সরকার দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই আইনকে মুসলিমদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এই আইনের মাধ্যমে মোদি সরকারের ভারতের দীর্ঘ দিনের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যকে খর্ব করছে। এছাড়া কয়েক মাস আগেই কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়েছে। সেখানে এখনো রাজনৈতিক নেতাদের আটকে রাখা হয়েছে।

শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা কনফারেন্স কলে সাংবাদিকদের বলেন, মোদির সঙ্গে বৈঠকে গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলবেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতার ইস্যু উত্থাপিত হবে। এটি বর্তমান প্রশাসনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতে সকলের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় থাকুক গোটা বিশ্বের কাছে এটাই কাম্য। সম্প্রতি চারজন মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে কাশ্মীর পরিস্থিতি ও সিএএ নিয়ে চিঠি লিখেছেন। সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়ন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তারা। 

মেলানিয়ার স্কুল পরিদর্শনে আমন্ত্রণ পাননি কেজরিওয়াল

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের আগে দিল্লিতে রাজনৈতিক বিভেদের চিত্র আরো স্পষ্ট হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ফার্স্ট লেডির সফর থেকে বাইরে রাখা হয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তার আম আদমি পার্টিকে (আপ)। মোদি সরকার ইচ্ছাকৃত এটা করেছে বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন।

আহমেদাবাদের অনুষ্ঠান এবং তাজমহল দর্শন শেষে মঙ্গলবার দিল্লিতে মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন ট্রাম্প। ঐ সময়ে দক্ষিণ দিল্লির একটি সরকারি স্কুল ঘুরে দেখবেন মেলানিয়া ট্রাম্প। পড়াশোনার ফাঁকে শিশুদের জন্য যে বিশেষ ‘হ্যাপিনেস কারিকুলাম’ চালু করেছে দিল্লি সরকার, তা দেখবেন তিনি।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, শুরুতে ঐ স্কুলে মেলানিয়াকে স্বাগত জানানোর কথা ছিল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তার ডেপুটি মনীশ সিসৌদিয়ার। এ নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে তাদের কথাও হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন সিসৌদিয়া। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আপের নেতারা। দলের নেত্রী প্রীতি শর্মা মেনন টুইটারে লিখেছেন, নরেন্দ্র মোদির মতো ক্ষুদ্র মন আর হয় না। অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মনীশ সিসৌদিয়াকে না-ই ডাকতে পারেন আপনারা। কিন্তু তাদের কাজই কথা বলবে। যদিও এ ব্যাপারে কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র। তার মতে, কিছু বিষয় নিয়ে নীচু স্তরের রাজনীতি না হওয়াই ভালো।