তাসলিমা আক্তার মুনমুন nনাফিয়া আজাদ
সম্প্রতি চীনে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্ক যা বাধ্য করেছে চীনকে সারা বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন ছিন্ন করতে, যার প্রভাব পড়ছে সে দেশ থেকে আমদানি-রপ্তানিকারক দেশের ওপর।
আমাদের দেশের আমদানি-রপ্তানিতেও দেখা যাচ্ছে অনেক করুণ পরিণতি, যেখানে আমদানি বন্ধ থাকার কারণে হু হু করে বেড়ে চলেছে সকল পণ্যদ্রব্যের মূল্য কিন্তু বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে রপ্তানিজাত পণ্যের বাজারে। বাধ্য হয়ে অনেক কমে বিক্রি করতে হচ্ছে সব যার দরুন মাশুল গুনতে হচ্ছে আমাদের দেশের সকল কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানিতে বাধাপ্রাপ্ত চাষিদের, না মিটাতে পারছে আড়তদারদের থেকে ধার নেওয়া অর্থ না পারছে মজুতকৃত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া সব বিক্রি করতে। এতে মারা যাচ্ছে অনেক এবং শুকিয়ে যাচ্ছে সেগুলো। এমনই পরিস্থিতির শিকার খুলনার কাঁকড়া চাষিরা।
বাংলাদেশের চাষিদের কাঁকড়া ও কুঁচিয়া চাষের যাত্রা শুরু আশির দশক থেকে। আমাদের দেশে সাতক্ষীরা জেলায় চাষিরা প্রতিবছর কাঁকড়া, কুঁচিয়া থেকে শুরু করে আরো নানা ধরনের মত্স্যজাত পণ্য রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখে। শুধু খুলনায় না দেশের আরো বিভিন্ন জায়গায় চাষ হয়ে থাকে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া কিন্তু সবচেয়ে বেশি হয় খুলনা জেলায়। মত্স্য সম্পদ রপ্তানির মধ্যে চিংড়ির পরেই কাঁকড়ার স্থান। স্থানীয় চাষিরা জানান, তারা দুই রকমের কুঁচিয়া চাষ করে থাকে। মিষ্টিপানির কুঁচিয়া প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় এবং লোনাপানির কুঁচিয়া প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়। কাঁকড়া মূলত কেজি অনুযায়ী বিক্রি করা হয়ে থাকে। কাঁকড়ার আকার ও গুণগতমান অনুযায়ী কেজি প্রতি চীনে বিক্রি হতো ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা থেকে ২ হাজার টাকায়। প্রায় ৩৫-৪০ টন কাঁকড়া ও ?কুঁচিয়া রপ্তানি করা হয় প্রতিদিন চীনে। প্রতিবছর ৭০০ কোটি টাকার ওপরে বাংলাদেশ থেকে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি করা হয় যার ৯০ ভাগ আমদানিকারক চীন দেশে হয়ে থাকে। সেখানে করোনা ভাইরাসের প্রকটে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে চীনের আমদানিকারকদের কাছ থেকে। যার প্রভাবে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করার মুখে। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে রপ্তানি বন্ধ থাকায় সংগ্রহ করা কাঁকড়া ও কুঁচিয়া শুকিয়ে এবং মরে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ ?ব্যবসায়ীরা?। শুধু তাই নয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রপ্তানি করে চাষিরা অর্ধেক দাম পাচ্ছে।
এ অবস্থায় দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। যারা আড়তদার ?থেকে টাকা ধার করে ব্যবসা শুরু করেছে যার ফলে তারা আজ ঋণের দায়ে জর্জরিত। এমনকি তাদের ক্ষতির অংশ পুরো দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। বেকার হাজার হাজার মানুষ আশায় আছে রপ্তানি শুরুর এবং পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করবে কিভাবে সে ভাবনায়। যেখানে পরিবারের সদস্যদের খাদ্য সংগ্রহের জন্য গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ পকেটে যথেষ্ট টাকা না থাকলেও। তাদের পাশে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাহায্য করার জন্য এগিয়ে না আসলে তারা ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য লিপ্ত হতে পারে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। কথায় আছে ‘অভাবে স্বভাব নষ্ট’। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি যাতে না হয় এটাই সবার কাম্য।
n লেখকদ্বয় :মার্কেটিং ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়