রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

ঢাকায় পাতাল রেল হবে বস্তিবাসী থাকবে ফ্ল্যাটে

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে ঢাকায় পাতাল রেল নির্মাণ করব। যার সমীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে আমরা করেছি। এছাড়া বস্তিবাসী থাকবে বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে। ঢাকা শহর ঘিরে আমরা একটা রিং রোড তৈরি করব, যা হবে সম্পূর্ণ এলিভেটেড। এতে দ্রুতগামী সকল যানবাহন চলতে পারে। মহানগর ঘিরে পাঁচটি নদীর নাব্যতা ফেরাতে খনন করা হবে এবং নদীগুলোর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে। ঢাকার সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি হবে, নৌপথ চালু হবে, যানজটমুক্ত হবে— সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

গতকাল সোমবার দুপুরে কামরাঙ্গীরচর হাসপাতাল মাঠে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, আমরা সার্বিকভাবে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে এবং আগামীর উন্নয়নের জন্য যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা রাখা একান্ত প্রয়োজন। তাই আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটকে ভোট দিয়ে সরকারের ধারাবাহিকতা রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার রাজনীতির লক্ষ্য মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য কিছুই করিনি; মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সব করেছি। দুই বার ক্ষমতায় থাকার কারণে মানুষের জীবন মান ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে। উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে। তাই দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগের ফের ক্ষমতায় আসা দরকার। তিনি বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচার ছাড়া কিছুই করতে পারেনি। তারা মানুষকে কিছু দিতে পারে না, শুধু নিতে পারে। পানি, বিদ্যুত্ সঙ্কটসহ নানা অনিয়মের কারণে বিএনপি আমলে তাদের সংসদ সদস্যরা জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালাত। বিদ্যুতের লোডশেডিংই বেশি থাকত। বিদ্যুত্ই ছিল না। রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশনের করুণ অবস্থা ছিল, একটা অসনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীতে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর শেষ জনসভা। ব্যাপক জনসমাগমে জনসভাটি রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বেলা ১১টায় জনসভার সময় নির্ধারণ ছিল। কিন্তু সকাল ৭ থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ জনসভাস্থলে আসতে থাকেন। সকাল ১০টার মধ্যে জনসভা এলাকায় লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌঁছালে উত্ফুল্ল লাখো জনতা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন।

বস্তিবাসীদের জন্য বহুতল ফ্ল্যাট নির্মাণেরও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মধ্যে কামরাঙ্গীরচরেই হবে ১০ হাজার। এ সব ফ্ল্যাটে বস্তিবাসীরা দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভাড়া দিয়ে থাকতে পারবে। কেবল বড়লোকরা ফ্ল্যাটে থাকবে— এটা আমি চাই না।। আমি চাই না বস্তিতে কেউ মানবেতর জীবন যাপন করুক। কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা তুলে ধরে কামরাঙ্গীরচরে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যদি আমরা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারি, এদেশে দারিদ্র্য থাকবে না। সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের অভাব দূর করার চেষ্টার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এ পানির অভাবের কারণে বিএনপির এমপিরা রুদ্ররোষে পড়েছিল। জনগণের ধাওয়া খেয়েছিল। প্রতিটি এলাকায় জলাধার থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা কামরাঙ্গীরচরের খাল উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন। তিনি বলেন, ভূমিখেকোরা ইতোমধ্যে এখানে অনেক অংশ দখল করে নিয়েছে। আজকে যারা খাল দখল করতে যাচ্ছে তাদের বলব— এ দখল করা বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে নির্দেশ দেন তিনি।

জনসভায় ঢাকা-৪ আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জাপা) সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদ, ঢাকা-৭ আসনে নৌকার প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ সেলিম, ঢাকা-৮ আসনে রাশেদ খান মেনন, ঢাকা-৯ আসনের সাবের হোসেন চৌধুরীকে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-৬ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদিও ছাত্রলীগ করেছিলেন, এখন করেন জাতীয় পার্টি (জাপা)।