ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা চলমান রয়েছে। সভায় প্রোগ্রামের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কোর্সের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়েও চলছে তুমুল হট্টগোল। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।
আজ সোমবার (২৪ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা শুরু হয়।
উত্তেজনার এক পর্যায়ে ফারসি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবদুস সবুর খান বলেন, ‘আমাদেরকে সহকর্মীর মতো আলোচনা করা দরকার। কিন্তু আমরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছি তাতে মনে হচ্ছে আমরা একে অপরের বিরোধী।’
বেশ কয়েক জন শিক্ষক ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘কোর্স বন্ধের বিষয়ে শিক্ষকদের বিরোধীতার মুখে চলমান থাকতে পারে এ কোর্স। সাময়িক স্থগিতের বিষয়টিও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
সভায় আলোচিত এ কোর্স বন্ধ না করার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন অধিকাংশ শিক্ষক। কোর্সের বিপক্ষে যুক্তি দেওয়া শিক্ষককেও নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে।
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সান্ধ্যকালীন কোর্স পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ সভা থেকে বের হয়ে জানান, শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলায় তার বক্তব্যের মধ্যে সভা থেকে ‘শেইম’ ‘শেইম’ চিৎকার আসে।
সভায় কোর্সের পক্ষ নিয়ে অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, ‘এ ধরনের প্রোগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। আমি যদি আমার বিভাগের কথা বলি তাহলে বলবো, আমার এখানে ডিগ্রি নেয়ার জন্য এখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা আসে, যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে গৌরবান্বিত করে।’
আরো পড়ুন: সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে না ঢাবি
কমিটির প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খুব সিরিয়াসলি কমিটির প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি। যাদের সাথে কথা বলা প্রয়োজন ছিল তাদের বক্তব্যও নেয়া হয়নি। এ প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে একপক্ষীয় হয়েছে।’ তবে তার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন উপাচার্য।
তবে দীর্ঘক্ষণ আবেদন করেও কথা বলতে পারেন নি রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা।
তবে কোর্সের বিরোধিতা করে স্যার এ এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের রেগুলার ছাত্ররা, যারা মেধা দিয়ে এখানে ভর্তি হয়, তাদের স্বার্থের বিষয়ে আমাদের চিন্তা করতে হয়। শিক্ষার্থীরা অনেকেই অভিযোগ করেছেন, আমাদের স্যাররা আমাদের সময় দেন না। আমাদের এ্যাসাইনমেন্ট দেন কিন্তু সেই এ্যাসাইনমেন্টের জন্য তদারকি করেন না।’
ইত্তেফাক/এএএম