কাওসার মুজিব অপূর্ব
‘ম্যাচে ফিরতে হলে ভাঙতে হবে জুটি’—আগের দিনই বলে রেখেছিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। কিন্তু, তৃতীয় দিন সকালে তার কথার প্রতিফলন মাঠে খুব কমই পাওয়া গেল। প্রথম সেশনে কোনো উইকেটই পড়ল না বাংলাদেশের। লাঞ্চের পর আরো ঘণ্টাখানেক ব্যাট করে গেলেন মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক।
দ্বিতীয় দিনেই এই দুজন ৬৮ রানের অপরাজিত জুটি করে বড়ো কিছুর আভাস দিয়ে রেখেছিলেন। গতকাল শুরুর দুই সেশনে সেই আভাস মিলে গেল অক্ষরে অক্ষরে। দুজন মিলে যোগ করলেন আরো ১৫৪ রান।
এর মধ্য দিয়েই সাদা পোশাকে বাংলাদেশের কোনো জুটি দশম বারের মতো ২০০-র বেশি রানের জুটি গড়েন। চতুর্থ উইকেটে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে করা মুশফিক-মুমিনুলের ২২২ রানের জুটি আছে নবম স্থানে। সবার ওপরে এখনো আছে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মুশফিকের জুটি। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনে পঞ্চম উইকেটে ৩৫৯ রান তারা যোগ করেছিলেন।
পাঁচ দিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ২০০ রানের জুটির দেখা পায় ২০১০ সালে। সেবার ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মিরপুরে ঠিক ২০০ রানে জুটিই গড়েন তামিম ইকবাল ও জুনায়েদ সিদ্দিক। সেখান থেকে এখন অবধি হওয়া ১০ টি দুশোর্ধ্ব জুটির তালিকায় সবচেয়ে সফল দুটি নাম হলো মুশফিক ও মুমিনুলের।
কারণ, এরমধ্যে তিনবার নিজেদের মধ্যে জুটি গড়ে বাংলাদেশকে রানের পাহাড়ে তুলেছেন এই দুজন। আগের দুটি হয়েছে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এর বাদে আরো দুই বার তালিকায় নাম এসেছে মুশফিকের। একবার তার সঙ্গী ছিলেন সাকিব, আরেকবার মোহাম্মদ আশরাফুল।
মুশফিক-মুমিনুলের গতকালকের এই জুটির সুবাদেই ক্রিকেটের সবচেয়ে আদি ফরম্যাটে দশমবারের মতো ৫০০’র ওপরে নিজেদের স্কোর নিয়ে গেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ছয় উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করার আগে করে ৩৬০ রান। এটা বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান।
এর আগে গলে ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬১৩ রানের পাহাড় গড়েছিল বাংলাদেশ। সেবারই মুশফিক প্রথমবারের মতো ডাবল সেঞ্চুরি করেন। টেস্টে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সেটাই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। এরপর ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটকে আট উইকেট হারিয়ে ৫৯৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করেন সাকিব।
আর তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের স্কোরে এবার আবারও ডাবল সেঞ্চুরি করলেন মুশফিক। এর অর্থ হলো, তালিকার প্রথম তিনটি স্কোরেই কোনো না কোনো ডাবল সেঞ্চুরির স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
২০০ রানের জুটি
জুটি রান প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল
সাকিব-মুশফিক ৩৫৯ নিউজিল্যান্ড ওয়েলিংটন ২০১৭
তামিম-ইমরুল ৩১২ পাকিস্তান খুলনা ২০১৫
আশরাফুল-মুশফিক ২৬৭ শ্রীলঙ্কা গল ২০১৩
মুমিনুল-মুশফিক ২৬৬ জিম্বাবুয়ে মিরপুর ২০১৮
মুমিনুল-মুশফিক ২৩৬ শ্রীলঙ্কা চট্টগ্রাম ২০১৮
সৌম্য-রিয়াদ ২৩৫ নিউজিল্যান্ড হ্যামিল্টন ২০১৯
শামসুর-ইমরুল ২৩২ শ্রীলঙ্কা চট্টগ্রাম ২০১৪
তামিম-ইমরুল ২২৪ জিম্বাবুয়ে চট্টগ্রাম ২০১৪
মুমিনুল-মুশফিক ২২২ জিম্বাবুয়ে মিরপুর ২০২০
তামিম-জুনায়েদ ২০০ ভারত মিরপুর ২০১০