আমি একবিংশ শতাব্দীর কথা বলছি...

নাইমা সুলতানা

আমি একবিংশ শতাব্দীর কথা বলছি। যে শতাব্দীতে যৌথ পরিবার বলতে আমাদের কাছে রূপকথার গল্প। দাদা-দাদি বলতে আমরা বুঝি বাবার মা-বাবাকে। আর মা-বাবা শব্দগুলোর পরিবর্তে আমরা মম-ডেড বলতেই খুব বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। একবিংশ শতাব্দীতে ব্যস্ত মা-বাবার সন্তানরা বেড়ে উঠছে ঘরের মেইড সার্ভেন্ট নামক মানুষের কাছে। মায়ের দুধের পরিবর্তে খাচ্ছে গরুর দুধ আর তাদের মায়ের প্রতি স্নেহ মমতাও জন্মাচ্ছে ঠিক তেমনই।

এ শতাব্দীতে শিক্ষার্থীদের কথা বলতে গেলে, স্কুলে পড়ুয়া ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা নিজের শখ পূরণ করে যান্ত্রিক জীবনে। তারা বাতাসের ধুলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাঠে খেলাধুলা না করে পাবজি, ফ্রি-ফাইয়ার খেলতে ভালোবাসে।

একবিংশ শতাব্দীর নতুন প্রজন্ম নিজেদের খুঁজে পাচ্ছে না সূর্যোদয়ের নতুন দিগন্তে, জোছনা রাতের জোনাকি আলোয়, সবুজ ঘাসের শিশিরের কণায়। তারা শুধু নিজেদের বিলিয়ে দিচ্ছে এক ভয়ংকর তেজষ্ক্রিয় পদার্থের মধ্যে। আর স্নোগানে মেতে উঠেছে ‘বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ।’

আমাদের আরো আধুনিকতার কথা বলতে গেলে, আমরা আধুনিক হচ্ছি নতুন আঙ্গিকে। যেখানে ক্লাসরুমে বই খাতার পরিবর্তে মুঠোফোন ব্যবহার করি যা একের ভেতর সব হিসেবে কাজ করে।

আর বই ! ওটাতো পুরাই অর্থ অপচয় বলে দাবি করি, যা দিয়ে রেস্টুরেন্টের ফাস্টফুড আর পিডিএফ সুবিধা ভোগ করি। আবার অন্যদিকে স্মার্টনেসের পরিচয়, পকেটে কলমের পরিবর্তে সিগারেট থাকা ।

বলাবাহুল্য, একবিংশ শতাব্দীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো আমরা নারী-পুরুষ সমান অধিকার দাবি করি, কিন্তু স্বাধীনতার কথা বলে স্বেচ্ছাচারিতা অর্জনের চেষ্টায় আছি । কিংবা যদি মানবিকতার কথা বলি তাতো অনেক দূরের বস্তু। আমাদের মতে মানবিকতা আধুনিকতার মধ্যে যায় না।

একবিংশ শতাব্দীতে রাস্তায় কুকুর মানুষকে তার নিজের জায়গা ছেড়ে দেয়। কিন্তু মানুষ প্রকৃতপক্ষে মানুষকে জায়গা দেয় না। তবুও আমরা ভ্রাতিত্বের বন্ধন দাবি করি। আমরা সকলে ভাই ভাই বলে স্লোগান করি ।

এ শতাব্দী আমাদের জীবন থেকে ভুলিয়ে দিচ্ছে নিঃস্বার্থ শব্দটা। বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় স্বার্থপরতাকে। শুধুমাত্র সত্য আমি, আমরা সব কিছু মিথ্যা। এ পৃথিবীতে মূলত নিঃস্বার্থ বলে আদৌ কিছু ছিল বলে মনে হয় কি?

শেষ কথা, আমরা আধুনিক হচ্ছি, একবিংশ শতাব্দী আমাদের আধুনিকতার পূর্ণতা দিচ্ছে আর এটাই আমাদের পরিচয়।

n লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়