ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে সামর্থ্য প্রমাণে ব্যর্থ ইসি

সুজনের সংবাদ সম্মেলন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন মূল্যায়ণ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন বলেছে, সদ্য সমাপ্ত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সামর্থ্য প্রমাণে আবারও ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই দুই সিটিতে ইসির সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া দুটি নির্বাচন ছিল নিয়ন্ত্রিত। প্রচার আছে যে, এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। এই শান্তি অশান্তির চেয়েও ভয়াবহ। কেননা ভয়ের সংস্কৃতির কারণে কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস না পেলে সে অন্যায়ের প্রতিকার পাওয়া দুষ্কর।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা। তারা আরো বলেন, নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ চরম দুর্বল ছিল। নির্বাচনে একজনের ভোট আরেকজন দেওয়াসহ নানা অনিয়ম হয়েছে। এ সময়ে সুজনের পক্ষ থেকে দুই সিটি নির্বাচনে বিজয়ীদের তথ্য বিশ্লেষণ ও নির্বাচনের মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন সভাপতি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, নির্বাচন কমিশন যে ব্যর্থ সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছারও অভাব রয়েছে। সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অনেক কমেছে যা একটি ‘অশনি সংকেত’।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচন ছিল নির্বাচন কমিশন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ এবং সরকারের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরীক্ষায় সবাই ব্যর্থ। নির্বাচন নিয়ে অনেক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত হওয়া দরকার। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে দৃশ্যমান কারচুপি হয়েছিল। এবার অদৃশ্য কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। যে অভিযোগগুলো এসেছে সেগুলোর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বদিউল আলম বলেন, ব্যবসায়ী জনপ্রতিনিধির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বেশি সম্পদশালীরা বেশি নির্বাচিত হচ্ছেন। রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণ আর ব্যবসায়ের রাজনীতিকীকরণ চলছে। তিনি বলেন, চার কারণে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। সেগুলো হচ্ছে—ইভিএমে সন্দেহ, ইসির ওপর অনাস্থা, ভোটকেন্দ্রে শোডাউন ও ভোট দিতে বাধা এবং একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দেওয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ভোটের মাধ্যমে ভোটারদের বার বার অপমান করা হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, সুজনের ফেসবুকে এক জরিপে অংশ নেওয়া চার হাজার ৩০০ মানুষের ৯৪ শতাংশই বলেছেন, এ নির্বাচনগুলো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়নি।