পিলখানা হত্যা মামলার বিচারের দুটি ধাপ পেরিয়েছে। ঘটনার আট বছরের মধ্যে উচ্চ ও নিম্ন আদালতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচার। গত ৮ জানুয়ারি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত রায়টি ২৯ হাজার পৃষ্ঠার। এটি বিশ্বের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো ভলিউমের রায়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে আসামিরা। কিন্তু রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করতে গিয়ে এখন সমস্যায় পড়েছেন দণ্ডিত আসামিদের আইনজীবীরা।
এ প্রসঙ্গে আসামিদের অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম আমিনুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারছি না। কারণ রায়টি অনেক বড়ো ভলিউমের। কোর্ট ফি দিয়ে রায়ের একটি সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করতে প্রায় ৯ লাখ টাকা লাগবে। তিনি বলেন, যারা দণ্ডিত আসামি তারা অসচ্ছল। এরা মামলা চালাতে আইনজীবীদের টাকাই ঠিকমতো জোগাড় করতে পারে না। সেখানে এত টাকা দিয়ে কীভাবে রায়ের অনুলিপি সংগ্রহ করবে? অ্যাডভোকেট আমিনুল বলেন, এজন্য হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যাতে আসামিরা নিয়মিত আপিল করতে পারে সেজন্য পূর্ণাঙ্গ রায়ের ফটো সার্টিফায়েড কপি সরবরাহ করতে রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। যদি ফটো সার্টিফায়েড কপি সরবরাহ করা হয় তাহলে আপিল দায়েরের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। এত বড়ো রায়ের কপি সরবরাহ করতে অনেক সময় লাগবে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখার।
অপরদিকে, এ মামলায় যারা খালাস পেয়েছেন পেপারবুক প্রস্তুতের পর তাদের বিষয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।