সাকিবের ছবিও নিষিদ্ধ!
জুয়াড়ির দেওয়া প্রস্তাব গোপন করায় আইসিসির দেওয়া এক বছরের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আর এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালেই তাকে পণ্যদূত করে সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি (এসএমসি)। বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে চলতি সিরিজেরও স্পন্সর তারা। এজন্য মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাকিবের ছবিযুক্ত ছাতা শোভা পাচ্ছিল। যদিও, টেস্টের প্রথম দুই দিন ব্যাপারটা নজরেই আসেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। টেস্টেও তৃতীয় দিন গেল রবিবার ব্যাপারটি নজরে আসার পরই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সাকিবের ছবিযুক্ত ছাতা। আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালে সাকিবের ছবি রেখে নতুন কোনো বিতর্কে বিসিবি জড়াতে চায় না বলেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় নজির
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গতকালকের জয়ের আগে ১১৮টি টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের সংখ্যা ছিল ১৩টি। ইনিংস ব্যবধানে জয় ছিল একটিতে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ ইনিংস ও ১৮৪ রানের বিশাল এক জয় পেয়েছিল। গতকাল আবারও প্রতিপক্ষকে ইনিংস ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের ব্যবধানে ইনিংস ১০৫ রানের। মানে ১১৯তম টেস্টে এসে প্রতিপক্ষকে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংস ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ।
নাঈমের সেরা
আর মাত্র একটা উইকেট পেলেই মাত্র চতুর্থ বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে এক টেস্টে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়তেন নাঈম হাসান। এর আগে সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুই বার এবং এনামুল হক জুনিয়র ও তাইজুল ইসলাম একবার করে এই কীর্তি গড়েছেন। সেই কীর্তি না ছুঁলেও অবশ্য ডানহাতি স্পিনার নাঈম হাসান নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার ছুঁয়েছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে চার উইকেট পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি নেন আরো পাঁচ উইকেট। এই নিয়ে ইনিংসে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেটে পেলেন ১৯ বছর বয়সি এই তরুণ।
সমতায় বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে লড়াই
একটা সময় বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে ছিল জিম্বাবুয়ে দল। তবে, কালক্রমে সেই অবস্থায় এসে পরিবর্তন। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট যখন একটু একটু করে অবনতির পথে হাঁটছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের হচ্ছে উন্নতি। আর এর প্রভাবটা এখন পড়ছে দুই দলের লড়াইয়ে। পরিসংখ্যান দিয়ে টেস্টেও এখন তাই মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে একই অবস্থানে আছে। টেস্টে সেই ২০০১ সাল থেকে এখন অবধি দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১৭ বার। এর মধ্যে দুই দলই সমান সাতটি করে ম্যাচ জিতেছে। আর তিনটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। গতকাল মিরপুরে সাদা পোশাকে সপ্তম বারের মতো বাংলাদেশের বিপক্ষে হারল জিম্বাবুয়ে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে
টেস্টে বাংলাদেশ
মোট ম্যাচ ১৭টি
জয় ৭টি
পরাজয় ৭টি
ড্র ৩টি
স্কোরকার্ড
জিম্বাবুয়ে-১ম ইনিংস : ১০৬.৩ ওভারে ২৬৫/১০
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস
৫৬০/৬ ডি., ১৫৪ ওভার (আগের দিন ৯/২, ৫ ওভার, কাসুজা ৮*, টেইলর ১*, নাইম ২/৪)।
জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
কাসুজা ক মিঠুন ব তাইজুল ১০ ৩৪ ০ ০
টেইলর ক তাইজুল ব নাঈম ১৭ ৪৭ ১ ১
আরভিন রান আউট (মুমিনুল) ৪৩ ৪৯ ৬ ১
সিকান্দার রাজা ক মুশফিক ব তাইজুল ৩৭ ৭১ ৩ ১
মারুমা ক তামিম ব নাঈম ৪১ ৫২ ৫ ০
চাকাভা ক তামিম ব তাইজুল ১৮ ৪০ ২ ০
এনলোভু এলবিডব্লিউ নাঈম ৪ ২ ১ ০
সুমা এলবিডব্লিউ তাইজুল ৩ ২৬ ০ ০
নাউচি অপরাজিত ৭ ২১ ০ ০
অতিরিক্ত (বা ৯) ৯
মোট (৫৭.৩ ওভার) ১৮৯
উইকেট পতন: ১/০ (মাসাউরে), ২/০ (তিরিপানো), ৩/১৫ (কাসুজা), ৪/৪৪ (টেইলর), ৫/১০৪ (আরভিন), ৬/১২১ (রাজা), ৭/১৬৫ (চাকাভা), ৮/১৭০ (এনলোভু), ৯/১৮১ (মারুমা), ১০/১৮৯ (সুমা)।
বাংলাদেশ বোলিং:নাইম হাসান: ২৪-৬-৮২-৫, তাইজুল ইসলাম: ২৪.৩-৭-৭৮-৪, আবু জায়েদ: ৪-৩-৪-০, এবাদত: ৫-১-১৬-০।
ফল: বাংলাদেশ ইনিংস ও ১০৬ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: মুশফিকুর রহিম
সিরিজ: এক ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ।