শমশেরনগর বাজার চৌমুহনা

সরু রাস্তায় যত্রতত্র পার্কিং

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারে প্রতিদিন যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ পথচারী ও ব্যবসায়ীরা।  সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার শমশেরনগর বাজার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। চৌমুহনায় পাঁচটি রাস্তার সংযোগ এবং চাতলাপুর শুল্ক স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা, কৈলাশহরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শমশেরনগর-কুলাউড়া, শমশেরনগর-শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে রাস্তার দুই পাশে সিএনজি-অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও গাড়ি পার্কিং থাকার কারণে এখানে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট, রেল স্টেশন, বিএএফ শাহীন কলেজ, সুজা মেমোরিয়াল কলেজ, হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এএটিএম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসা, বাণিজ্যিক ব্যাংক, পুলিশ ফাঁড়ি, পোস্ট অফিস, চা-বাগানসহ নানা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, পথচারী ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সময়ে যানজটে আটকা পড়তে হচ্ছে। সরু সড়ক থাকার কারণে ও রাস্তার পাশে এলোমেলো গাড়ি পার্কিং থাকায় হেঁটে চলাচলও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

শমশেরনগর বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন, জয়নাল আবদীন, রুমেল আহমদ ও রফিকুল ইসলাম বলেন, শমশেরনগর চৌমুহনী কুলাউড়া সড়ক, চাতলাপুর সড়ক, শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কে সিএনজি-অটোরিকশা স্ট্যান্ড, বাস পার্কিং, ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ডে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে প্রতি দিনই যানজট সৃষ্টি হয়। যানজটের কারণে পথচারী, শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণের চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। এসব বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে রোধ হবে না।

শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার, নাফিসা সুলতানা, সোয়েব আহমদ বলেন, প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। স্কুল ও কলেজে যাতায়াতের সময় আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তার পাশে গাড়ি থাকায় হেঁটে চলা সম্ভব হয় না। হাজি মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিপ্লব ভূষণ দাস বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে হাজি মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত বিচরণ থাকে। অথচ সড়কের এ স্থানেই বেশির ভাগ সময় যানজট সৃষ্টি হয়। 

সুজা মেমোরিয়াল কলেজ শিক্ষক জমশেদ আলী বলেন, শমশেরনগর বাজারে প্রতিদিন যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী পিন্টু আহমেদ ও আবদুল মোত্তাকীম বলেন, প্রতিদিন যানজট তৈরি হলে ব্যবসায়েরও ক্ষতি হচ্ছে। মানুষের যাতায়াতের সুযোগটুকুও থাকছে না। এ ব্যাপারে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা ব্যবসায়ী সমিতি, সিএনজি-অটোরিকশা চালক সমিতির নেতারা ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠকে বসে সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করেছি। এছাড়াও যখনই যানজট তৈরি হচ্ছে তখনই পুলিশি সহযোগিতায় রাস্তার যানজটমুক্ত করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি দাবি করেন। কমলগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।