ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল মঙ্গলবার ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন দুই নেতা। এরপর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে ৩০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার হলো। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, একুশ শতকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খবর:এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার ভারতে দ্বিতীয় ও শেষদিনের সফর শুরু করেন রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভিবাদন গ্রহণের মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি রাজঘাট যান মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। সেখান থেকে তিনি যান হায়দ্রাবাদ হাউজে। যেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বিকেলে তিনি ভারতের ব্যয়সায়ী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সাংবাদিক সম্মেলনেও কথা বলেন তিনি। রাতে রাষ্ট্রপতি ভবনে তার সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে যোগ দেন ট্রাম্প।
যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এর আগে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক কখনো এতো ভালো ছিল না। আমরা এমন কিছু কাজ করেছি, যা দুই দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে। সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মুক্ত ও ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করতে সম্মত হয়েছি। একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি। ভারতে ফাইভ-জি টেলিকম নেটওয়ার্কের সুরক্ষার গুরুত্ব নিয়েও মোদির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, একুশ শতকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বন্ধন কেবল সরকারের সঙ্গে সরকারের নয়, বরং মানুষ-কেন্দ্রিক ও মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক।
বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভ ও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছি। তিনি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা চান। তারা এ বিষয়ে খুবই পরিশ্রম করছেন। আমি সহিংসতা ও মানুষের ওপর হামলার কথা শুনেছি, তবে তা নিয়ে আলোচনা করিনি। এটা ভারতের বিষয়। আমি আশা করি, মানুষের জন্য সঠিক কাজটাই তারা করবেন।
পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গেও কাজ করছে। এ সময় কাশ্মির ইস্যুতে তিনি বলেন, নিজেদের সমস্যা নিয়ে কাজ করছে ভারত ও পাকিস্তান। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। মধ্যস্থতা করতে আমার যা কিছু করতে হবে, আমি করতে পারি। সব দিক থেকে কাশ্মির এখন কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সময় নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে তিনি বলেন, মোদি একজন শক্ত মানুষ। আমি তার কাজ দেখেছি। এ বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করি।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনাকালে করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তার মতে, এই সমস্যা স্বল্প সময়ের। এই সমস্যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে না। তিনি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
দিল্লিতে ‘হ্যাপিনেস ক্লাস’
করলেন মেলানিয়া
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গতকাল দক্ষিণ দিল্লির এক সরকারি স্কুল পরিদর্শন করেন। নানকপুরের সর্বদোয়া সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে গিয়ে হ্যাপিনেস ক্লাস প্রত্যক্ষ করেন তিনি। স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাকে মালা এবং কপালে টিপ পরিয়ে অভ্যর্থনা জানায়। পরে স্কুল ক্যাম্পাসে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এমন প্রশান্ত মনে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দিন শুরুর বিষয়টি খুবই উদ্দীপ্ত করেছে আমাকে। এর চেয়ে ভালোভাবে দিন শুরুর কথা ভাবতেও পারবো না আমি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ৩৬ ঘণ্টার সফরে সোমবার ভারতে আসেন। আহমেদাবাদে তিনি ‘নমস্তে ট্রাম্প’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ফার্স্ট লেডিকে নিয়ে যান তাজমহল দর্শনে। গতকাল ব্যস্ত সময় কাটিয়ে রাতে দিল্লি ত্যাগ করেন।