চতুর্থ স্ত্রী সামিরাকে নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড (প্রশিকার মোড়) এলাকার একটি বাসার তিনতলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন জমি ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান (৫২)। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আব্দুর রহমানের ব্যাবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে স্ত্রী সামিরাকে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করান। এই ক্ষোভে ঘটনার দিন রাত ৩টার দিকে ধারালো দা দিয়ে স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ অ্যাসিড দিয়ে ঝলসে তোশকে মুড়িয়ে রাখেন সামিরা।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামিরা ও তার বাবা আলী হোসেনকে (৫৫) গ্রেফতার করে র্যাব-১ পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের একটি দল।
সামিরার বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, ১০ ফেব্রুয়ারি ব্যাবসায়িক অংশীদার রতনের সঙ্গে স্ত্রী সামিরাকে যৌনকাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করান স্বামী আব্দুর রহমান। ঐ দিন রাত ১১টার দিকে রতন তাদের বাসা থেকে চলে যান। পরিকল্পনা করে রাত ৩টার দিকে বাসায় থাকা ধারালো দা দিয়ে আব্দুর রহমানকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করেন সামিরা। হত্যার পর তিন দিন সামিরা মরদেহ নিয়ে একই বাসায় থাকেন। মরদেহ সরিয়ে ফেলতে ব্যর্থ হয়ে মা-বাবার সহায়তায় বাসা থেকে পালিয়ে যান। কালিয়াকৈর থানাধীন ফুলবাড়ী এলাকার এক বান্ধবীর বাসায় দুদিন আত্মগোপন করার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি নওগাঁয় মামার বাসায় যান সামিরা। সেখানে কিছুদিন অবস্থান করে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় চাচার বাসায় আত্মগোপন করেন তিনি। অবশেষে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সামিরা খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার মর্মান্তিক বর্ণনা দেন।
র্যাব জানায়, আব্দুর রহমান ও সামিরার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় পূর্বপরিচিত ছিলেন। ২০১৬ সালে আব্দুর রহমান দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বসবাস করতেন। সামিরা টঙ্গী সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি পরীক্ষার্থী ছিলেন। দুজন পূর্বপরিচিত হওয়ায় আব্দুর রহমানের বাসায় থেকে পরীক্ষা দিতেন সামিরা। এরই মধ্যে সামিরাকে বিভিন্নভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন আব্দুর রহমান। এরপর কৌশলে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে সামিরাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন আব্দুর রহমান। একই সঙ্গে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন চলে ধর্ষণ।
ওই ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ পেলে সামিরাকে ডিভোর্স দেন স্বামী। পরে সামিরা উপজেলার নয়নপুর এলাকায় একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সামিরাকে বিয়ে করে কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করেন আব্দুর রহমান।
র্যাব-১ এর কোম্পাানি কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মূলত যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আব্দুর রহমানকে খুন করেন সামিরা। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।