ত্রাতা গ্রিজমানে স্বস্তি বার্সার

 স্পোর্টস ডেস্ক

বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নকআউট পর্বে বিপক্ষের মাঠে আরো একবার হারের শঙ্কা পেয়ে বসেছিল। তবে আন্তনিও গ্রিজমানের গোলে ন্যাপোলির মাঠে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে হার এড়িয়েছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। তাতে ইতালি থেকে ১-১ ড্র নিয়ে ফিরে আসায় স্বস্তি ঝরেছে কাতালান ক্লাবটির কোচ কিকে সেতিয়েনের কণ্ঠেও।

গত মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে শুরু থেকে বার্সেলোনা বলের দখল রাখলেও প্রতি আক্রমণে ত্রাস ছড়াচ্ছিল ন্যাপোলিই। ৩০ মিনিটে তেমনই এক প্রতি আক্রমণ থেকে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন ড্রাইস মার্টেন্স। এরপর লিওনেল মেসির দল প্রথমার্ধে ন্যাপোলির জমাট রক্ষণ ভাঙতে তো পারেইনি, প্রতিপক্ষ বক্সে সফল পাসই খেলতে পেরেছে মোটে তিনটি!

পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া স্প্যানিশ দলটি দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে সার্জিও বুস্কেটসের মুহূর্তের ঝলকে। প্রতিপক্ষ বক্সের একটু সামনে থেকে তার পাস খুঁজে নেয় নেলসন সেমেদোকে। তার ক্রস থেকেই দারুণ ফিনিশে বার্সাকে সমতায় ফেরান গ্রিজমান। ম্যাচের বাকি অর্ধে গোলের চেষ্টা থাকলেও সফলতা পায়নি কোনো দলই, ফলে ১-১ ড্র-ই নিয়তি হয় দুই দলের।

তবে বার্সা অ্যাওয়ে গোল নিয়ে পরবর্তী লেগের আগে এগিয়ে থাকলেও একাদশ নিয়েই পড়ে গেছে চিন্তায়। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তৃতীয় হলুদ কার্ডটি দেখে পরবর্তী লেগে নিষিদ্ধ হয়ে গেছেন সান পাওলোয় সেরার পুরস্কার পাওয়া বুস্কেটস। ম্যাচে দুটো হলুদ কার্ড দেখে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন আরেক মিডফিল্ডার আর্তুরো ভিদালও।

ম্যাচের শেষদিকে গোড়ালির চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন জেরার্ড পিকে। এ কারণে পরবর্তী লেগে খেলাও অনিশ্চিত তার। কোচ কিকে সেতিয়েন জানালেন, স্কোয়াড সমস্যার সমাধান শিগিগরই খুঁজে বের করতে হবে দলকে। তিনি বলেন, ‘বুস্কেটস তৃতীয় হলুদ কার্ড দেখেছে আর ভিদালকেও পরের ম্যাচে পাচ্ছি না আমরা। পিকের সমস্যাটা গোড়ালিতে। এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে আমাদের।’

তবে দলের পারফরম্যান্স সন্তোষ জাগানিয়া না হলেও কোচ সেতিয়েন ম্যাচের ফলাফলে খুশি। বার্সা কোচের ভাষ্য, ‘তারা তাদের অঞ্চলে ১০ জন নিয়ে রক্ষণ করছিল। এটা সত্য যে আমরাও কিছু সৃষ্টি করতে পারিনি তবে আমরা জানতাম এটা ধৈর্যের ব্যাপার। আমাদের জেদি মানসিকতাই পরে ফাঁকা জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিল আমাদের। সবকিছু মিলিয়ে এটা ভালো ফলাফল। বিশেষ করে যখন পরের লেগটা আমরা আমাদের মাঠে খেলতে পারব।’

নকআউট পর্বে গোল পাওয়া রীতিমতো বড়ো সমস্যাই হয়ে দাঁড়িয়েছে কাতালান দলটির জন্যে। ২০১৫ সালে বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে নেইমারের জোড়া গোলের পর প্রতিপক্ষের মাঠে মেসি ছাড়া আর গোল ছিল না আর কোনো বার্সা ফরোয়ার্ডেরই। এমনকি খোদ মেসিও ২০১৮ সালে চেলসির বিপক্ষে গোল করার পর আর পাননি অ্যাওয়ে গোল। গেল বছর একমাত্র নকআউট অ্যাওয়ে গোলটি এসেছিল আত্মঘাতী গোল থেকে।

ন্যাপোলির মাঠে লক্ষ্যভেদ করে এদিন সে বার্সাকে এমন অস্বস্তিকর তথ্য থেকে মুক্তি দেন গ্রিজমান। এরপরও জয় পায়নি বার্সা। এ কারণে হতাশার অন্ত নেই বার্সার ফরাসি ফরোয়ার্ডের, ‘আমরা জিততেই চেয়েছিলাম। সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়েছিলাম। কিন্তু সেটা হয়নি।’

ন্যাপোলি ১

চেলসি ০

বার্সা ১

বায়ার্ন ৩