সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি কিনেও পুলের গাড়ি ব্যবহার

সরকারি গাড়ির অপব্যবহার থামছে না। প্রশাসনের দুই সহস্রাধিক কর্মকর্তা সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি নেওয়ার পরও পরিবহন পুল থেকে গাড়ি নিয়ে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ টাকাও উত্তোলন করছেন তারা। ফলে এ খাতে সরকারি অর্থের সাশ্রয় তো দূরের                 কথা, খরচ আরো বেড়েছে। আবার কোনো কোনো কর্মকর্তা ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকায় গাড়ি কিনেছেন, এতে অতিরিক্ত ব্যয়ের উত্স নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

এমন বাস্তবতায় গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউসুফ হারুনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঋণে নেওয়া গাড়ির পাশাপাশি যারা পুলের গাড়ি ব্যবহার করছেন, তাদেরকে অবিলম্বে তা ফেরত দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সভায় উপসচিব ও উপসচিব পদমর্যাদার প্রায় ৪৯ হাজার কর্মকর্তাকে সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আগে শুধু উপসচিবরা এ সুযোগ পেতেন। এখন ঐ পদমর্যাদাধারী অন্য ক্যাডার কর্মকর্তারাও গাড়ি পাবেন। এজন্য প্রতিটি গাড়ির জন্য ৩০ লাখ টাকা হিসাবে ১৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। আর প্রতিটি গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসিক ৫০ হাজার টাকা হিসাবে বছরে খরচ হবে ৩ হাজার কোটি টাকা।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইত্তেফাককে বলেন, সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি নেওয়ার পরও পুলের গাড়ি ব্যবহার অনৈতিক। সরকার যেখানে সাশ্রয়ের জন্য কর্মকর্তাদের গাড়ি দিচ্ছে, সেখানে দুটো করে গাড়ি ব্যবহার এবং দুটোর জন্য আলাদা আলাদা রক্ষণাবেক্ষণ বা জ্বালানি খরচ নেওয়া বেআইনি কাজ। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, শিগগির এ বিষয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে পরিপত্র দেওয়া হবে। সেখানে কারা কারা গাড়ির জন্য ঋণ নিয়েছেন, পুল থেকে তথ্য নেওয়া হবে কারা গাড়ি জমা দেননি। তথ্য পাওয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচিব আরো জানান, প্রকল্পের মেয়াদান্তে জমা না দিয়ে কারা কীভাবে কোন কাজে গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং এর সংখ্যা কত সে বিষয়েও পরিবহন কমিশনারকে তথ্য দিতে বলা হয়েছে।  প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রাধিকার প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণে বিশেষ অগ্রিম গাড়ি সেবা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এতে ৩০ লাখ টাকা অগ্রিম এবং মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

সরকারি কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০৮ জন কর্মকর্তা ঋণে গাড়ি নিয়েছেন। কিন্তু প্রেষণ, মাঠ প্রশাসন এবং প্রকল্প কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক গাড়ির সুবিধা থাকার পরেও বেশকিছু কর্মকর্তা রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ ২৫ হাজার টাকার স্থলে ৫০ হাজার টাকা করে গ্রহণ করছেন। অবৈধভাবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার উদ্দেশ্যে সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা গাড়িটি অব্যবহূত দেখাচ্ছেন। অনেকে গাড়ি ক্রয় করেই রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় তুলে নিচ্ছেন। অনেকে ঋণের গাড়ির পাশাপাশি পুলের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ অবৈধভাবে ৫০ হাজার টাকা তুলছেন।  গতকালের সভায় আরো যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অধিক ব্যয়ের উত্স জানাতে হবে, ঋণের গাড়ি ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং অফিসের কাজে ব্যবহার করতে হবে, অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নেওয়া যাবে না এবং অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ হ্রাস করে সরকারের জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করতে হবে।