ওদের চোখে এগিয়ে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার

দাপুটে পারফরম্যান্সেই জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টের চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ। টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের পর এবার ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। ৫০ ওভারের এ ফরম্যাটে দুই দলের লড়াই শুরু হয়েছিল ঠিক ২৩ বছর আগে (১৯৯৭ সাল, কেনিয়ার নাইরোবি)। গতকালই ওয়ানডে সিরিজের ভেন্যু সিলেটে চলে গেছে দুই দল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ১ মার্চ শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এ সিরিজে নিজেদেরই এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশের তিন তরুণ ক্রিকেটার। ওয়ানডে দলে প্রথমবার ডাক পাওয়া আফিফ হোসেন ও নাঈম শেখ মনে করেন, জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই সম্ভব। ইনজুরি থেকে ফেরা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও মনে করেন, বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে এগিয়ে থাকছে।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে এখন পর্যন্ত ৭২ বার মুখোমুখি হয়েছে। ৪৪টি ম্যাচ জিতে এগিয়ে আছে টাইগাররা। যেখানে জিম্বাবুয়ের জয় ২৮টি। আফ্রিকার দলটির কাছে শেষ ১৩ ম্যাচের সবকটিই জিতেছিল বাংলাদেশ। সাত বছর আগে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০১৩ সালের ৮ মে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতেছিল স্বাগতিকরা। তবে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের কাছে হারটা ১০ বছর আগে। ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর মিরপুর স্টেডিয়ামে লো স্কোরিং ম্যাচে ৯ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করার আত্মবিশ্বাস নিয়েই গতকাল সিলেটে গিয়েছে বাংলাদেশ দল। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজ জেতা সম্পর্কে সাইফউদ্দিন বলেছেন, ‘অবশ্যই সম্ভব। তুলনামূলক আমরা জিম্বাবুয়ে থেকে অনেক এগিয়ে। মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকে, টেস্টে ভালো করেছি। ওয়ানডেতেও শেষ কয়েকবারের দেখায় ধবলধোলাই করেছি। আমরা আশাবাদী ধবলধোলাই করতে পারব। তবে ক্রিকেট খেলা, কিছুই কিন্তু বলা যায় না।’

আফিফেরও আশা প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সেরা ক্রিকেট খেললে অবশ্যই ধবলধোলাই সম্ভব।’

বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগের ছাড়পত্র পেয়েই পাঁচ মাস পর সদ্য সমাপ্ত বিসিএলে খেলেছিলেন সাইফউদ্দিন। পিঠের ইনজুরি কাটিয়ে এখন শতভাগ দিয়ে খেলতে পারবেন বলে আশা তার। ধবলধোলাইয়ের লক্ষ্য থাকলেও জিম্বাবুয়েকে হালকাভাবে নিতে নরাজ সাইফউদ্দিন। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘জিম্বাবুয়েকে খাটো করে দেখার কিছু নেই। ইংল্যান্ডের মতো দলও কিন্তু নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেছিল টি-টোয়েন্টি। এসব তো জোর গলায় বলা কঠিন। তবে আমরা ধবলধোলাইয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলব।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মোর্তজার নেতৃত্বের প্রশংসা সর্বত্র। আফিফ-নাঈম শেখরা রোমাঞ্চিত ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে থাকা মাশরাফির অধীনে খেলার সুযোগ পেয়ে। দুজনই টি-২০ খেলেছেন, এবার সুযোগ পেয়েছেন ওয়ানডেতে। ওয়ানডে দলে ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন আফিফ। যার মাধ্যমে তার আশা পূরণও হয়েছে।

বাঁ-হাতি ওপেনার নাঈম সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দিতে চান। গতকাল এ তরুণ বলেছেন, ‘ভাগ্যবান আমি। মাশরাফি ভাইয়ের অধীনে খেলতে পারছি। মূল একাদশে যদি সুযোগ পাই, আমার শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব।’

আফিফ বাড়তি চাপ অনুভব করছেন না ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়ে। তিনি বলেন, ‘বাড়তি চাপ কাজ করে না। আমাদের দল ভালো দল। মাশরাফি ভাইও ফিরছে। সব মিলিয়ে আমাদের খেলা খেলতে পারলে ভালোই হবে।’