স্পোর্টস রিপোর্টার
দেশের অ্যাথলেটিকসের মান নেই এখন আর কেউ কথা বলেন না। গত দুই যুগে দেশের অ্যাথলেটিকস নিচের দিকে নামতে নামতে এখন এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, দেশের এ খেলাটি নিয়ে কারো আগ্রহ নেই। অথচ অ্যাথলেটিকস হচ্ছে একটা গেমসের মাদার অব স্পোর্টস। নেপালে বাংলাদেশ ১৯ স্বর্ণপদক পেয়েছে। অথচ সেখানে অ্যাথলেটিকসে স্বর্ণপদক নেই। মালদ্বীপের ইতিহাসে তারাই ১০০ মিটার স্প্রিন্টার স্বর্ণপদক নিয়ে গেছেন যাদের ঘরে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকও নেই। তাহলে কি বুঝা যায় ট্র্যাক ছাড়াও স্বর্ণপদক জয় করা যায়। আর বাংলাদেশের ঘরে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক থাকার পরও পদকের দেখা নেই। সামনে আসছে বাংলাদেশ গেমস। আগামী ১-১০ এপ্রিল ঢাকায় বাংলাদেশ গেমস হতে যাচ্ছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে এই আয়োজন হতে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ২০০৬ সালে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক স্থাপন করা হয়েছিল। সেই ট্র্যাক অযত্নে অবহেলায় এখন জীর্ণদশা। বিভিন্ন অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে অন্তত ৫০ বার মঞ্চ বানানো হয়েছে, ভারী যানবাহন আসা-যাওয়া করেছে ট্র্যাকের ওপর দিয়ে। নানাভাবে এ ট্র্যাক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, এখন জায়গায় জায়গায় জোড়াতালি দেওয়া। সেই জোড়াতালির অবস্থা এমনই হয়েছে যা এখন ফাঁদে পরিণত। অনেক জায়গায় জোড়াতালি উঠে গিয়ে হা হয়ে গেছে। খেয়াল না করে দৌড়ালে যে কোনো মুহূর্তে উলটে পড়ে মারাত্মক আঘাত পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অ্যাথলেটরা শঙ্কা করছেন তারা এই অ্যাথলেটিকস ট্র্যাককে ঝুঁকি মনে করছেন। আরেক অ্যাথলেট বললেন আমরা শুনেছি ট্র্যাক সংস্কার করা হবে। না করা হলে এখানে খেলে আহত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এরই মধ্যে অনেক অ্যাথলেট আহত হয়েছেন। বিকেএসপির কোচ আব্দুল্লাহ হেল কাফি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের এই ট্র্যাক খেলার উপযোগী না। ট্র্যাকের কোনো ইভেন্ট আয়োজন করা যায় না। তবে ফিল্ডের কিছুই ইভেন্ট করা যায় সেখানে।’
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পরিবর্তে বিকেএসপিতে বাংলাদেশ গেমসের অ্যাথলেটিক আয়োজন করা যায় কিনা এমন প্রশ্ন উঠেছিল। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিকেএসপি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।’ সম্প্রতি জাতীয় অ্যাথলেটিকস চট্টগ্রামে হয়েছিল। সেটা নিয়ে নানা সমালোচনা হয়। মন্টু বলেন, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই বাংলাদেশ গেমসের অ্যাথলেটিকস হবে।’
এই মুহূর্তে নতুন ট্র্যাক স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মাসুদ করিম সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সংস্কারের জন্য ১০০ কোটি টাকার বাজেট হয়েছে। সেখানে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকও রয়েছে। তাদের কনসালট্যান্ট ফার্ম খতিয়ে দেখছে।’ এ ধরনের কথাও আগেও বলেছেন তিনি।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এই জীর্ণ ট্র্যাকেই বাংলাদেশ গেমস হবে।
বিওএর সহসভাপতি বশির আলম মামুন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ট্র্যাক সংস্কার করার জন্য আমরা এনএসসিকে পাঁচ-ছয় বার চিঠি দিয়েছি। কোনো কাজ হয়নি। আমরা তো ঝগড়া করতে পারি না। আমরা নিজেরাই সংস্কার করিয়ে দেব।’