মালয়েশিয়ার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, পার্লামেন্টই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজা। পার্লামেন্টেই সিদ্ধান্ত হবে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন। যার পর্যাপ্ত সমর্থন থাকবে, তিনিই এই পদে আসীন হবেন। যদি কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হন, সেক্ষেত্রে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। খবরে বলা হয়েছে, আগামী সোমবার মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ভোটাভুটি হবে।
জোট রাজনীতিতে জটিলতার মুখে গত সোমবার পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এর কয়েক ঘণ্টা পরই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে দেশটির রাজা মাহাথিরকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মালয়েশিয়ায় মাহাথির ও আনোয়ার ইব্রাহিমের রাজনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সর্বশেষ এ দুই নেতা ২০১৮ সালে ক্ষমতাসীন ইউএমএনও নেতৃত্বাধীন বারিসান ন্যাসিওনাল জোটকে ক্ষমতা থেকে সরাতে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে। তাদের চুক্তি ছিল, একটি নির্দিষ্ট সময় পর মাহাথির প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন আনোয়ার ইব্রাহিম। কিন্তু পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে মাহাথির নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণে রাজি না হওয়ায় পাকাতান হারাপান জোটে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মাহাথির হঠাত্ পদত্যাগ করায়, আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে মাহাথির একটি ঐকমত্যের সরকার গঠনের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে আনোয়ার বুধবার এই ‘ব্যাকডোর সরকার’ গঠনের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে সাবেক পাকাতান হারাপান জোটের তিনটি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে রাজার কাছে তার নাম প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) দল, যারা প্রায় ছয় দশক মিয়ানমারের ক্ষমতায় ছিল, তারাও মাহাথিরের পরিকল্পনা নাকচ করেছে। তারা নতুন নির্বাচন চায়।