প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ডেঙ্গু রোগ সৃষ্টিকারী এডিস মশা নির্মূলে আগাম কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘ডেঙ্গু একটি সমস্যা আকারেই দেখা দিয়েছে। কাজেই এখন থেকেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। মশা আপনার ভোট যেন খেয়ে না ফেলে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। মশা ক্ষুদ্র হলেও অনেক শক্তিশালী, এটা মাথায় রাখতে হবে। সেদিকে আপনারা বিশেষভাবে একটু নজর দেবেন। যেন সঠিকভাবে মশা নিধন হয়।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এর অগে শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ের শাপলা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামকে শপথবাক্য পাঠ করান। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম একই স্থানে দুই সিটি করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিত ১৭২ জন কাউন্সিলরকে শপথবাক্য পাঠ করান। গত ১ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ বর্তমান মেয়র ও কাউন্সিলরদের মেয়াদ ডিএসসিসিতে ১৭ মে এবং ডিএনসিসিতে ১৩ মে শেষ হবে।
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ওষুধের কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেই নিজ নিজ দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন, সেটাই আমরা চাই।’ শেখ হাসিনা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি সরকারও এটি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেবে বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, তাদের কাছে আমার এই অনুরোধটাই থাকবে যে জনগণ আপনাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আপনারা যে শপথ নিয়েছেন, সেই শপথের কথা মনে রেখে আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবার সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে তার সরকারের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার তথ্য জানিয়ে এর সংক্রমণ রোধে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘একটি হাসপাতাল আমরা আলাদাভাবে করে দিচ্ছি এবং সেখানে ডাক্তার, নার্সসহ যারা সেবা দেবে, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, পোশাক ঠিক করা এবং তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করছি।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা পুনরায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমি চাই যেন কোনো ধরনের দুর্নীতি না হয়। যদি অনিয়ম-দুর্নীতি হয়, সে যেই হোক না কেন, আমি তাকে ছাড়ব না।’ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পুনরোল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।’
শেখ হাসিনা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আগত মেয়র ও কাউন্সিলরদের নির্বাচিত হয়ে আসায় অভিনন্দন জানান এবং দলের নেতাকর্মীসহ সবাইকে আগামী ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং নবনিযুক্ত দুই মেয়র এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।