ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র তীরের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কে উদাল গাছ আছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে হাঁটতে গিয়ে দেখি গাছ ফুলে ফুলে ভরে আছে, ঝুলে আছে পুষ্পমঞ্জরি। কয়েকটি পাতা আছে। বাকি সব পাতা ঝরে গেছে। ছবি তুললাম ঝটপট।
উদাল ২০ মিটার বা তারও বেশি উঁচু পত্রমোচী মাথা ছড়ানো গাছ। বৈজ্ঞানিক নাম Sterculia villosa, Sterculiaceae পরিবারের উদ্ভিদ। এদের বাকল সাদাটে। পাতার বোঁটা লম্বা, ফলক বড়ো ও পাতা খাঁজকাটা, পাতার প্রশাখার আগায় পাতা ঘনবদ্ধ। এদের নিষ্পত্র শাখার লম্বা ও ঝুলন্ত ডাঁটায় অনেকগুলি ফুল হয়। ফুল পুংলিঙ্গ ও উভয়লিঙ্গ; ফুল ১.৫ সেন্টিমিটার চওড়া। ফুলগুলি হলুদ রঙের, ফুলের ভেতরটা বেগুনি। এদের ডাঁটায় একসঙ্গে কয়েকটি রোমশ বিদারী শুষ্ক ফল গুচ্ছবদ্ধ, পাকলে গাঢ় লাল হয়। এই গাছের বড়ো বড়ো কয়েকটি বীজ থাকে এবং বীজের রং কালো। বাংলাদেশসহ ক্রান্তীয় এশিয়ার প্রজাতি, বাকল থেকে আঁশ পাওয়া যায়। এদের বীজে চাষ করা হয়।
রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় জন্মে। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-৪ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।
উদাল গাছের কাঠ বাদামি রঙের। কাঠ সাধারণত নরম ও হালকা। এই কাঠ দিয়ে চা বাক্স বানানো হয়। এই গাছের বাকল থেকে পাওয়া আঁশ দিয়ে মোটা রশি তৈরি করা হয়। এর অনেক ঔষধিগুণ রয়েছে। বাকলের শরবত খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। ফুলের বৃন্ত ছেঁচে পানির সঙ্গে চিনি দিয়ে শরবত করে খেলে প্রস্রাবের সমস্যা ও বাতের ব্যথা দূর হয়।