লিগ মৌসুমের শেষ এল ক্লাসিকোয় আগামীকাল রবিবার রাতে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এই দ্বৈরথ বার্সেলোনা কোচ কিকে সেতিয়েনের জন্যে আবার বিশেষ কিছু। কারণ বার্সা কোচ হিসেবে এটি তার প্রথম বার্নাব্যু সফর হলেও রিয়ালের মাঠে তার অতীত অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে সেতিয়েনকে।
রিয়ালের জন্যে বার্নাব্যুতে সেতিয়েনের রেকর্ডটা বেশ ভীতিজাগানিয়া। লাস পালমাসকে নিয়ে ২০১৫-১৬ মৌসুমে রাফা বেনিতেজের রিয়ালকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন সেতিয়েন। পরের মৌসুমেও লাস পালমাস একই ফলাফল নিয়ে ফেরার আশা জাগিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জোড়া গোল সে আশায় পানি ঢালে।
এরপরের দুই মৌসুমেও বেতিসকে নিয়ে ১-০ আর ২-০ গোলে জয় নিয়ে বার্নাব্যু ছেড়েছিলেন ৬০ বছর বয়সি এই স্প্যানিয়ার্ড। শেষ ম্যাচে আবার বর্তমান বার্সা লেফটব্যাক জুনিয়র ফিরপো খেলেছিলেন বেতিসের হয়ে। রবিবার রাতের ম্যাচেও নিশ্চিতভাবেই যে পুরোনো স্মৃতির পুনরাবৃত্তিই চাইবেন দুজনে, তা বলাই বাহুল্য।
শেষ কিছুদিনে রিয়ালের ফর্মটাও পক্ষে কথা বলছে না মোটেও। টানা পাঁচ জয়ে লিগের শীর্ষে উঠে আসার পর সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে পয়েন্ট খোয়ায় রিয়াল। পরের ম্যাচে লেভান্তের কাছে হেরে শীর্ষস্থান হাতছাড়া হয় জিদানের দলের। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হার প্রতিযোগিতাটি থেকে বিদায়ের শঙ্কাই সৃষ্টি করেছে রিয়াল শিবিরে।
এ ম্যাচে আবার বার্সা কোচ সেতিয়েন হাজির ছিলেন বার্নাব্যু গ্যালারিতে। সেদিন রিয়ালের ভুলগুলোও নিশ্চয়ই নোটবুকে টুকে রেখেছেন তিনি। তার ওপর বার্সেলোনাকে আশা যোগাচ্ছে ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের ফেরা। ন্যাপোলির মাঠে শেষ মুহূর্তে চোট নিয়ে তার মাঠ ছাড়া কিছুটা শঙ্কায়ই ফেলে দিয়েছিল দলটিকে। তবে গতকাল শুক্রবার ক্লাসিকোর আগে ঘরের মাঠে শেষ অনুশীলনেই ফিরেছেন পিকে। রবিবার রাতের ম্যাচে শুরু থেকেই খেলতে কোনো অসুবিধা নেই তার, জানিয়েছে বার্সা কর্তৃপক্ষ।
তবে রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক সার্জিও রামোস জানালেন দলের সাম্প্রতিক ফর্ম পক্ষে কথা না বললেও বার্সাকে হারানোর হাতছানিতে উজ্জীবিত তার দল। তিনি বলেন,‘এটা আর সব ম্যাচের মতো নয় মোটেও। তিন পয়েন্টের হাতছানি সব ম্যাচেই থাকে, কিন্তু এল ক্লাসিকো সেগুলোর মতো নয়। বার্সাকে হারানো বেশ আনন্দদায়ী। এটাই দলের মানসিকতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।’