ডাকাতিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ডাকাতিয়া নদী। এক পাড়ে পশ্চিম দেবীপুর, অন্য পাড়ে পূর্ব দেবীপুর গ্রাম। দুই গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষের যোগাযোগের ভরসা প্রায় ২৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো। তাও এখন নড়বড়ে। তাতে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। প্রতিদিন অন্তত ১ হাজার মানুষ এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। এর মধ্যে বেশির ভাগই শিক্ষার্থী।

ঐ দুই গ্রামের মানুষ ছাড়াও কাজীর চর, চরমোহনা ও শোলাখালী গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এই সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসী। গত কয়েক বছরে স্থানীয়দের অনেকেই সাঁকো পার হতে গিয়ে পড়ে আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রতিদিনই নড়ক (সাঁকো) পেরিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বর্ষায় নদী টইটম্বুর হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। বাঁশের সেতুর পরিবর্তে পাকা সেতুর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানায়, গ্রামবাসীর অর্থায়নে আনুমানিক ১৯৮৬ সালে রায়পুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেবীপুর ও অপর পাড়ে পূর্ব দেবীপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর ওপর এ বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় ২৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটি নির্মাণে তখন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এরপর একাধিকবার মেরামত করা হলেও বর্তমানে সেই সাঁকোটি নড়বড়ে অবস্থা।

সরেজমিন দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে চলাচল করছে। তারা ঐ সাঁকোটি পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করে। শিশুরা সাঁকোটির দুপাড়ে অভিভাবকের জন্য অপেক্ষা করেন। অভিভাবক আসলে শিশুদের কোলে করে পারাপার করতে হচ্ছে।

দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সূচনা আক্তার বলেন, ‘আমাগো বাড়ি নদীর ওপার (পশ্চিম দেবীপুর)। হাক্কা (সাঁকো) দিয়া স্কুলে যাইতে আইতে খুব ডর করে। হাক্কার ওপরে উঠলে পা কাঁপে। মনে হয় বুঝি, এহনি পানিতে পইরা যামু। তাই আমাগো কথা চিন্তা করি এখানে এটা সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’

রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সফিউল আজম সুমন চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এলজিইডির কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসনকে এলাকার জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি অবহিত করে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় এ সমস্যার সমাধান হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশিদ বলেন, দেবীপুরের বাঁশের সাঁকোটি সার্ভে করে ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।