ইত্তেফাক রিপোর্ট
প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি (২০১৯-২০২০) অর্থবছরেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ সংশোধন করা হচ্ছে। এবার সরকারি ব্যয়ের অংশ ঠিক রেখে বৈদেশিক সহায়তার বড়ো অংশ কাটছাঁট হতে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ ছিল। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প সহায়তা আকারে ব্যয়ের লক্ষ্য হতে সংশোধিত এডিপিতে ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমিয়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের অংশ আগের মতো রাখা হতে পারে। সবমিলিয়ে ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমিয়ে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা হচ্ছে।
সরকার প্রতিবছর শতভাগ এডিপি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিলেও বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে প্রতিবছরই অর্থবছরের শেষভাগে এসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কাটছাঁট প্রয়োজন হয়। গত অর্থবছর এডিপির আকার কমেছিল ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। এবার কমতে পারে ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। চলতি মার্চের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এনইসি সভায় এডিপি সংশোধনের এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে বলে পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত কমিটির বৈঠকে অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার চূড়ান্ত করে তা এনইসি সভায় উপস্থাপন করা হবে।
এডিপি বাস্তবায়নের চিত্রে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে ২৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছিল ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। চলতি এডিপিতে ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ৫৬ হাজার ৭১২ কোটি ১২ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের ছয় মাসে খরচ হয়েছিল ৪৯ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে টাকার অঙ্কে ব্যয় বাড়লেও শতাংশের হিসাবে কমেছে বাস্তবায়ন হার।