স্পোর্টস রিপোর্টার
বিশ্বকাপে শেষ দুই ম্যাচ, শ্রীলঙ্কা সফরে টানা তিন ম্যাচ—টানা পাঁচ হার।
সমালোচনার তোপে পড়ে প্রাণ বিষিয়ে উঠা মাশরাফি বিন মুর্তজাও শেষ পাঁচ ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য। অধিনায়কের সঙ্গে বাংলাদেশ দলও গতকাল প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে পেল স্বস্তির অনুসঙ্গ। জয়ের রথে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। বল হাতে উইকেটের দেখা পেয়েছেন মাশরাফি।
অধিনায়ক ও দলের সাফল্যের যুগলবন্দির ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন লিটন কুমার দাস। গতকাল সিলেটে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই ওপেনার। তারপর খর্ব শক্তির জিম্বাবুয়ের লড়াইটা দীর্ঘায়িত হতে দেননি বোলাররা। গতকাল সিলেটে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ১৬৯ রানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণীতে অধিনায়ক মাশরাফি বলেছেন, ‘আমরা তিন বিভাগেই ভালো করেছি। লিটন ভালো ব্যাটিং করেছে। মাহমুদউল্লাহ, মিঠুনও ভালো করেছে। সাইফউদ্দিন মাত্র ইনজুরি কাটিয়ে আট মাস পর ফিরেছে। স্কোরবোর্ডে ৩২১ রান থাকলেও জিততে হলে আপনাকে ভালো জায়গায় বোলিং করতে হবে।’
সিলেটে গতকাল টস জয়ী বাংলাদেশের রানের চাকা শুরু থেকে সচল রেখেছিলেন লিটন। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটস খেলেছেন তিনি। ডানহাতি এই ওপেনারের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন কখনোই ছিল না। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠার হার, বড়ো ইনিংস খেলার হার কম বলেই যত আক্ষেপ ছিল সবার মনে। গতকাল একপ্রান্তে তামিমের নিষ্প্রভতার প্রভাব পড়তে দেননি লিটন। তামিমের সংগ্রামী ৪৩ বলে ২৪ রানের ইনিংসের ইতি ঘটে ১৩তম ওভারে। তামিম ফেরার পরপরই ৪৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন। তারপর শান্তকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন ৮০ রান। প্রায় দেড় বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা শান্ত ২৯ রান করে এলবির ফাঁদে পড়েন। তারপরই ৯৫ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। ২০১৮ সালে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে মারকুটে ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। তার ১২১ রানের ইনিংসটি প্রশংসিত হয়েছিল সর্বত্র। এরপর ওয়ানডেতে তিনটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। সেঞ্চুরি পাননি। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৯৪ রান করেছিলেন।
গতকাল আর ভুল করেননি লিটন। তবে তার ব্যাটের ছন্দ বলছিল ডাবল সেঞ্চুরিও সম্ভব। কিন্তু মাসল ক্র্যাম্প করায় ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি লিটন। ১০৫ বলে ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ১২৬ রানের (১৩ চার, ২ ছয়) ইনিংস খেলেন তিনি। লিটন ফেরার পর মিডল অর্ডারে মুশফিক (১৯), মাহমুদউল্লাহরা (৩২) পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি। তারপরও মিঠুনের ৪১ বলে ৫০, সাইফউদ্দিনের ১৫ বলে অপরাজিত ২৮ রানের ইনিংসে তিনশো ছাড়ায় বাংলাদেশের স্কোর (৩২১)।
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পরে ৩৯.১ ওভারে ১৫২ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে সাইফউদ্দিন ৩টি, মাশরাফি-মিরাজ ২টি করে, মুস্তাফিজ-তাইজুল ১টি করে উইকেট পান। আর ১৬৯ রানে জয়টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানে জয়ের রেকর্ড। এর আগে সর্বোচ্চ ১৬৩ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ, ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মিরপুরে।
লিটন
দাস
আহত অবসর
বল
১০৫
রান
১২৬
চার
১৩
ছয়
২
স্কো র কা র্ড
টস : বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ইনিংস রান বল চার ছয়
লিটন দাস আহত অবসর ১২৬ ১০৫ ১৩ ২
তামিম ইকবাল এলবিডব্লিউ মাধেভেরে ২৪ ৪৩ ২ ০
নাজমুল শান্ত এলবিডব্লিউ মুতুমবোজি ২৯ ৩৮ ১ ২
মুশফিক ক মুতুমবোজি ব তিরিপানো ১৯ ২৬ ০ ০
মাহমুদউল্লাহ এলবিডব্লিউ এমপোফু ৩২ ২৮ ২ ১
মোহাম্মদ মিঠুন এলবিডব্লিউ এমপোফু ৫০ ৪১ ৫ ১
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন অপরাজিত ২৮ ১৫ ০ ৩
মিরাজ ক কামুনহুকামউই ব মুম্বা ৭ ৪ ০ ১
মাশরাফি বিন মুর্তজা অপরাজিত ০ ০ ০ ০
অতিরিক্ত (লে বা ১, ও ৫) ৬
মোট (৫০ ওভার, ৬ উইকেট) ৩২১
উইকেট পতন : ১/৬০ (তামিম), ২/১৪০ (শান্ত), ৩/১৮২ (মুশফিক), ৩/২০৬* (লিটন আহত অবসর), ৪/২৭৪ (মাহমুদউল্লাহ), ৫/২৮৯ (মিঠুন), ৬/২৯৮ (মেহেদী)
জিম্বাবুয়ে বোলিং :
ক্রিস্টোফার এমপোফু : ১০-০-৬৮-২ (ও-১), কার্ল মুম্বা : ৮-০-৪৫-১ (ও-১), ওয়েসলি মাধেভেরে : ৮-০-৪৮-১, ডোনাল্ড তিরিপানো : ৭-০-৫৬-১ (ও-৩), সিকান্দার রাজা : ১০-০-৫৬-০, তিনোতেন্ডা মুতুমবোজি : ৭-০-৪৭-১।
জিম্বাবুয়ে ইনিংস রান বল চার ছয়
কামুনহুকামউই বোল্ড ব সাইফউদ্দিন ১ ১০ ০ ০
চিবাবা ক মাহমুদউল্লাহ ব মাশরাফি ১০ ২২ ১ ০
চাকাভা এলবিডব্লিউ ব সাইফউদ্দিন ১১ ১৮ ১ ০
টেইলর বোল্ড ব তাইজুল ৮ ১৫ ১ ০
মাধেভেরে ক মাশরাফি ব মিরাজ ৩৫ ৪৪ ৫ ০
সিকান্দার ক মাহমুদউল্লাহ ব মুস্তাফিজ ১৮ ৩২ ২ ০
মুতুম্বামি রান আউট (শান্ত/মুশফিক) ১৭ ১৪ ০ ২
মুতুমবোজি ক সাইফউদ্দিন ব মাশরাফি ২৪ ৪৭ ৩ ০
তিরিপানো ক অ্যান্ড ব মিরাজ ২ ১৩ ০ ০
কার্ল মুম্বা বোল্ড ব সাইফউদ্দিন ১৩ ১২ ১ ১
ক্রিস্টোফার এমপোফু অপরাজিত ৯ ৮ ০ ০
অতিরিক্ত (লে বা-১, ও-৩) ৪
মোট (অলআউট, ৩৯.১ ওভার) ১৫২
উইকেট পতন : ১/১ (কামুনহুকামউই), ২/২৩ (চাকাভা), ৩/২৩ (চিবাবা), ৪/৪৪ (টেইলর), ৫/৭৯ (রাজা), ৬/৮৪ (মাধেভেরে), ৭/১০৬ (মুতুম্বামি), ৮/১০৯ (তিরিপানো), ৯/১৩০ (মুম্বা), ১০/১৫২ (মুতুমবোজি)।
বাংলাদেশ বোলিং :
মুস্তাফিজুর রহমান : ৬-০-২২-১, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন : ৭-০-২২-৩ (ও-২, মাশরাফি বিন মর্তুজা : ৬.১-০-৩৫-২, তাইজুল ইসলাম : ৯-২-২৭-১ (ও-১), মেহেদী হাসান মিরাজ : ৮-১-৩৩-২, মাহমুদউলল্লাহ : ৩-০-১২-১।
ফল : বাংলাদেশ ১৬৯ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা : লিটন দাস
সিরিজ :তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে বাংলাদেশ।