মাত্র ৯টি টেস্ট খেলেছেন। এর মধ্যেই বাংলাদেশের এক নম্বর টেস্ট বোলার হয়ে গেছেন। সিলেটের এই ফাস্ট বোলার লংগার ভার্শন ক্রিকেটের বিশেষ ভক্ত। নিজের বোলিং, জাতীয় দলের চিত্র, নিজের উঠে আসা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন রাহি। সিলেটে সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন
দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির লবিতে সিলেটের নামকরা সব ক্রিকেটারের জার্সি বাঁধাই করা আছে। সেখানে আপনারও একটা জার্সি আছে। কেমন লাগে এটা দেখতে?
এটা দারুণ একটা অনুভূতি। আমার ওখানে এক স্যার আছেন—তারেক স্যার। উনি আমাকে পড়াশোনায় অনেক হেল্প করেছেন। আমার যখন ন্যাশনাল টিমে ডেব্যু হলো, স্যারকে বললাম, আপনাকে একটা জার্সি গিফট করতে চাই। স্যার বললেন, আমাকে না দিয়ে ইউনিভার্সিটিতে দাও। উনি ওটা বাধাই করে রেখেছেন। এরপর থেকে আমি জাতীয় দলে খেললেই ইউনিভার্সিটিতে একটা জার্সি দেই।
ক্রিকেটে শুরুটা কেমন করে হলো?
আমি এমনি শখের বসে খেলতাম। আমার স্কুলে ক্রিকেটের একটা দারুণ কালচার ছিল। আমার স্কুল ছিল দি এইডেড হাইস্কুল। এই এক স্কুল থেকে অলক কাপালি, রাজিন সালেহ, তাপস বৈশ্যর মতো ক্রিকেটাররা উঠে এসেছেন। এই স্কুলে আমি খুব হেল্প পেয়েছি খেলার ব্যাপারে। বলতে পারেন, স্কুলের কারণেই আমি এখানে।
জাতীয় ক্রিকেটে আসার পথটা কেমন ছিল?
প্রথমে শখের বসেই ক্রিকেট খেলতাম। পরে অনূর্ধ্ব-১৩ দলে ট্রায়াল দিয়েছিলাম; সেখানে বাদ পড়ে গিয়েছিলাম। অনূর্ধ্ব-১৬ দলে গেলাম। সেখানে অনেক জোরে বল করতাম। বাবুল স্যারের (মিজানুর রহমান বাবুল) কোচিং করতাম। অনূর্ধ্ব-১৭ যখন খেলি, তখন আমার বলে সুইং দেখে আমাকে সরাসরি অনূর্ধ্ব-১৯ দলে নিয়ে নিয়েছিল। এরপর তো প্রিমিয়ার লিগ, বিসিএল, এনসিএল খেললাম। জাতীয় দলে এলাম।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট নিয়ে একটু কথা বলি। প্রথম ইনিংসে তো দারুণ বল করলেন। প্রস্তুতি খুব ভালো ছিল মনে হয়?
খানিকটা ছিল। সৌরভ ভাই (মুমিনুল হক) আমাদের আগেই বলেছিল, ‘তোমাদের পেসারদের কিন্তু উইকেট নিতে হবে। আমরা দেশের মাটিতে তিন-চার স্পিনার খেলাতাম, তারাই উইকেট নিতো। এটা বদলাতে চাই। কিন্তু তোমরা উইকেট না নিলে আমরা এটা বদলাতে পারব না।’
পরে মাঠে নেমে তো দেখলেন যে, উইকেটে পেসারদের জন্য একটু হেল্পও আছে। এটা অবাক করেছে?
সত্যি বলতে, আমি এটা আশা করিনি। প্রথম ইনিংসে আমরা বোলিং করলে আরো ভালো করতে পারতাম মনে হয়।
আপনি ছোট্ট ক্যারিয়ারে চার বার ৩ উইকেট করে নিয়েছেন; এই নিয়ে দুই বার ৪ উইকেট নিলেন। ৫ উইকেটের জন্য আফসোস হয় না?
হয়। আমি তো প্রতি ম্যাচেই ৩ উইকেট পেলে ভাবি, এবার ৫ উইকেট হয়ে যাবে। তবে এটা ঠিক যে, না পাওয়াতে ক্ষুধাও বাড়ছে। অবশ্য এটা নিয়ে কথা বললে সৌরভ ভাই (মুমিনুল হক) রাগ করে। বলে—৫ উইকেটের জন্য খেলো না, ভালো বোলিং করো। তারপরও ২-৩টা টপ অর্ডারের উইকেট পেলেই মনে হয় আজ পেয়ে যাব।
ইন্দোরে ভারতের সেরা ৪ ব্যাটসম্যানের উইকেট নিয়েছিলেন। ওটা কি এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং?
তাই মনে হয়। জিম্বাবুয়ের সাথে তো টপ অর্ডার, লোয়ার অর্ডার মিলিয়ে ৪ উইকেট নিলাম। আর ওখানে কোহলি, পুজারাসহ চারটে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের উইকেট পেয়েছিলাম। ওটা দারুণ ছিল। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের আউট করতে পারলে বেশি ভালো লাগে।
জাতীয় দলে সিনিয়রদের কাছ থেকে কেমন সাপোর্ট পাচ্ছেন?
অবিশ্বাস্য। আমার মনে হয়, দিনকে দিন আগের চেয়ে বেশি সাপোর্ট পাচ্ছি। ড্রেসিংরুম, প্র্যাকটিস, মাঠের খেলা; সব জায়গায় খুব উত্সাহ দেন সিনিয়ররা। প্র্যাকটিসে সিনিয়র ব্যাটসম্যানরা ডেকে ডেকে নেটে নেয়। বলে—নতুন বলে বল করতে আয়; আবার পুরনো বলেও ডাকেন। একটা চার হয়ে গেলে কেউ না কেউ এসে বলে, এটা সমস্যা না। এতে মন ভালো হয়ে যায়। তামিম ভাই, ঐ দিন আমারে বলল, তুমি আমারে প্রতিদিন ১২ বল বোলিং করবা কমপক্ষে। এটা খুব ভালো লাগে।
তামিম নাকি আপনাকে ‘মেডেন বোলার’ বলে ডাকে?
হ্যাঁ, উনি একদিন বলল, তোর তো টার্গেট থাকে, মেডেন নিয়ে চাপ দেওয়া। বলে, আমি খুব চালাক বোলার। উনি কী করে, একটা খারাপ বল করলেও খুব সান্ত্বনা দেয়। আমার ওনাদের চেষ্টাটা খুব ভালো লাগে। সেদিন আমরা যখন ম্যাচ জিতে যাচ্ছি, তখন তামিম ভাই একটা চার বাঁচানোর জন্য যে দৌড়টা দিল; এটা দেখলে আমাদের আরো ভালো করতে ইচ্ছে করে।
বাংলাদেশে একটা কথা বলা হয়, ফাস্ট বোলাররা টেস্ট বা লংগার ভার্শন খেলতে খুব আগ্রহী নয়। আপনার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উলটো। টেস্টের প্রতি এতো আগ্রহ কীভাবে হলো?
আমি প্রথম এনসিএল খেলা থেকেই এই ফরম্যাটকে খুব পছন্দ করেছি। এখানে সারাদিন বল করে অনেক কিছু শেখা যায়, অনেক নতুন নতুন কাজ করা যায় বোলিং করে। টেস্টে বা লংগার ভার্শনে ড্রেসিংরুমের পরিবেশটাই আলাদা থাকে। টেস্টের ড্রেসিংরুম থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। আমি লিমিটেড ওভারও খেলতে চাই। কিন্তু টেস্ট সবার আগে।