আমাদের জাতীয় সড়কগুলোতে কোনো স্পিডব্রেকার বা গতিরোধক বিট ব্যবহার করতে হলে বা করার জন্য সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু কোড বা নিয়ম রয়েছে। যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বাজার, পার্ক বা কোলাহলপূর্ণ স্থান যদি রাস্তার পাশে হয়, তাহলে সেখানে স্পিডব্রেকার থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু কথা হলো, এই স্পিডব্রেকারে সুনির্দিষ্ট কোনো রং দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া থাকে না বা কোনো সংকেত, সাইন কিছুই না থাকার ফলে এই বিটগুলো দূর থেকে দেখা যায় না। এতে গাড়ি তার স্বাভাবিক গতিতে থাকে এবং বিটের কাছাকাছি এসে চালক ঠিক দেখেন না বা আঁচ করতে পারেন না। কাছাকাছি এসে চালক বিট দেখলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, ফলে ঘটে দুর্ঘটনা। ইদানীং লক্ষ করেছি—গ্রামগঞ্জের সড়কগুলোতে প্রচুর স্পিডব্রেকার দেওয়া থাকে; যে যেভাবে পারে বা মনে করে সে সেভাবে দিয়ে দেয় রাস্তার মধ্যে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের জন্য এটি বিপদজ্জনক; কারণ মোটরসাইকেল একটু বেশি গতিতে থাকে বলে বিটে এসে ধাক্কা লাগে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। এমনও দেখা যায়, প্রতি ৩০/৪০ মিটার পরপর এই বিটগুলো দেখা যায়। এটা একদিকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করে, আবার দুর্ঘটনা সৃষ্টির কারণও হয়ে দাঁড়ায়! আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি ঘটে সড়ক দুর্ঘটনা আর এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো আমাদের অসাবধানতা, অসচেতনতা ও অবহেলা। ছোটো হোক আর বড়ো হোক যে কোনো ভুলের কারণে যদি জীবন যায়, তাহলে তার ক্ষত বয়ে বেড়াতে হয় পরিবারকেই। তাই দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান থাকবে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার।
গোফরান উদ্দিন
শনির আখড়া, কদমতলী, ঢাকা