গণপিটুনি রোধে ৫ দফা নির্দেশনা হাইকোর্টের

গুজব সৃষ্টি ও গণপিটুনির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। ঐ রায়ে বলা হয়েছে, পুলিশের প্রত্যেক সার্কেল অফিসার (এএসপি) তার অধীনের প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে ছয় মাসে অন্তত একবার গণপিটুনি প্রবণতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে সভা করবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ধরনের অডিও, ভিডিও, খুদে বার্তা যা গুজব সৃষ্টি বা গণপিটুনিতে মানুষকে উত্তেজিত বা প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো বিষয় থাকলে তা বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যে দুষ্কৃতকারীরা এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যখনই গণপিটুনির কোনো ঘটনা ঘটবে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এফআইআর নিতে বাধ্য থাকবে এবং পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করবেন। গণপিটুনির বিরুদ্ধে সচেনতা তৈরির লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারণা অব্যাহত রাখবেন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই রায় দেন। রায়ে ঢাকার বাড্ডায় গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যার ঘটনা রোধে উত্তর বাড্ডা প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করে ঢাকা জেলার শিক্ষা অফিসারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

পদ্মা সেতু নিয়ে একটি গুজবকে কেন্দ্র করে গত বছরের জুলাই মাসে দেশের কয়েকটি স্থানে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। সে রকম একটি ঘটনা ঘটে ঢাকার বাড্ডায়। গত ২০ জুলাই সেখানে গণপিটুনিতে নিহত হন তাসলিমা বেগম রেনু নামের এক নারী। উত্তর বাড্ডায় মেয়েকে ভর্তি করানোর তথ্য জানতে স্থানীয় একটি স্কুলে যান রেনু। এসময় তাকে ছেলেধরা সন্দেহে প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে টেনে বের করে গণপিটুনিতে হত্যা করেন স্থানীয় লোকজন। এরপরই গণপিটুনি রোধে হাইকোর্টের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। গত বছরের ২৬ আগস্ট গণপিটুনিতে নিহতদের জীবন রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের ব্যর্থতার প্রশ্নে রুল জারি করে আদালত। একইসঙ্গে গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়। এই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এই রায় দিয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।