পুটিয়া শ্রমিকনেতা নুরুল হত্যা মামলা

ওসি সাকিলের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে, হাইকোর্টের আদেশ বহাল

শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহার বদলে ফেলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওসি সাকিলউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে এজাহার বদলে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওসির বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ঐ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ঐ ওসি। শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ ওসির আবেদন খারিজ করে দেন। এর ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

গত পহেলা ডিসেম্বর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ওসি সাকিলের বিরুদ্ধে আদেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার বাদীর মূল এজাহার গ্রহণ না করে মনগড়া এজাহার সৃজনের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত রাজশাহীর পুঠিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাকিল। থানার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড নি:সন্দেহে গুরুতর অপরাধ। যা দণ্ডবিধির ১৬৬ ও ১৬৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দণ্ডবিধির ঐ দুটি ধারার অপরাধ দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের তপশিলভুক্ত। এ কারণে ওসি সাকিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও আনুষঙ্গিক নথি দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণের জন্য রাজশাহীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হলো। এসব নথির ভিত্তিতে সাকিলের বিরুদ্ধে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে দুদক। এছাড়া নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার মূল এজাহারটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন্সকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হলো। পাশাপাশি ওসির বিরুদ্ধে শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলামের মেয়ে, ওসির অধীনস্থ পুলিশ সদস্য ও তার শাশুড়ির দেওয়া অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ওসি সাকিল। আদালতে ওসির পক্ষে আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও আব্দুল মতিন খসরু এবং বিবাদী পক্ষে ফিদা এম কামাল ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া শুনানি করেন।